সিরিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সানা জানিয়েছে, ইসরায়েলি জঙ্গি বিমান দেশটির হামা প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। এক মাসের মধ্যে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ করল সিরিয়া। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট আই লিখেছে, ইসরায়েল যে স্থানে হামলা চালিয়েছে সেখানে আসলে কি ছিল, তা স্পষ্ট ভাবে না জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের মতে, ইসরায়েলি হামলার শিকার স্থানটিতে রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছিল সিরীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। ওপর একটি সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানিদের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগার।
সিরিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সানা রবিবার জানিয়েছে, হামা প্রদেশের মিসিয়াফ শহরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলাটি চালানো হয়েছে। এতে হতাহতের কোন খবর দেয়নি সানা। শুধু স্থাপনার ক্ষতি হওয়ার কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেতজ জানিয়েছে, গত বছরও ওই স্থানে একবার হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। আর এবারের হামলার সময় সেখানে ছিল ইরানিদের উপস্থিতি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের’ প্রধান রামি আব্দেল রহমান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, বিমান হামলার স্থানটিতে একটি ওয়ার্কশপ ছিল। ইরানিরা সেখানে ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন তদারকি করছিল। ইরানি সেনাবাহিনী ও লেবাননের হেজবুল্লাহর সদস্যদের ওই সেক্টরে মোতায়েন করা রাখা হয়েছিল। লেবাননভিত্তিক মায়েদিন চ্যানেল জানিয়েছে, ইসরায়েলি জঙ্গি বিমান লেবাননের আকাশ সীমা থেকেই সিরিয়ায় থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ইসরায়েল নাইরাব বিমান বন্দরের কাছে অবস্থিত একটি সিরীয় বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। বিমান বন্দরটি আলেপ্পো শহরের কাছে ইসরায়েল। কিন্তু অন্য সূত্রগুলো ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছে, হামলাটি হয়েছে ইরানিদের ওপর। স্থানটি ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডের নিয়ন্ত্রণে ছিল। হামলায় কয়েকজন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, সিরিয়াতে অবস্থিত অনেকগুলো ইরানি স্থাপনা কার্যত সিরীয় সেনাবাহিনীর অবস্থানের লাগোয়া।
২০১১ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত সিরিয়ার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া ও ইরান। অন্যদিকে ওই অঞ্চলে ইরান ও ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাহর উপস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছে ইসরায়েল।








