পাথর ছোড়ার অভিযোগে সম্প্রতি মুক্তি প্রাপ্ত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা আহেদ তামিমির ভাইকে ১৪ মাস কারাদণ্ড দিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার ইসরায়ের সেনাবাহিনী এই ঘোষণা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এখবর জানিয়েছে।
এবছর মে মাসে আহেদ তামিমির ভাই ওয়ায়েদ তামিমিকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি বাহিনী। ‘জনপ্রিয় সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে’ যুক্ত সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার ইসরায়েলের একটি সামরিক আদালত সহিংস সংঘাতে ওয়ায়েদ জড়িত বলে রায় দেয়। ফিলিস্তিনি মুক্তি সংগ্রামের সংগঠন হামাসের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ কর্মসূচিকে এই নামে আখ্যা দিয়ে থাকে ইসরায়েল।
আদালতে নথির বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা জানায়, ক্ষমা আবেদনের পর দরকষাকষির পর ১৪ বছরের সাজা দেওয়া হয়।
ওয়ায়েদ তামিমির বাবা বাসেম তামিমি বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে পুরো মামলা সতকর্তামূলক। এটা আমাদের পরিবারের ওপর প্রতিশোধমূলক হিসেবেই দেখছি আমি।
বাসেম জানান, তার মনে হয় অভিযোগের চেয়ে বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে ছেলেকে। তিনি বলেন, অনেক ছেলেই এমন আচরণে কোনও মামলা ছাড়াই আছে। অন্য পরিবারের কেউ হলে নিশ্চিতভাবেই সে কম সাজা পেত।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ১৫ বছরের জ্ঞাতি ভাইকে মাথায় গুলি করার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলি সেনাকে থাপ্পড় মারেন আহেদ তামিমি। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা সারাবিশ্বের নজরে আসে। পরে আহেদ তামিমি ও তার মা নরিমনকে গ্রেফতার করে ইসরায়েল এবং কারাদণ্ড দেয়। ২৯ জুলাই আহেদ ও তার মায়ের মুক্তির আগ পর্যন্ত তামিমি পরিবারের অর্ধেক সদস্যই ইসরায়েলের হাতে বন্দি ছিলেন।
বাসেম আরও বলেন, ‘এই রায় আমাদের হতবাক করেছে। আহেদের মুক্তির আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। আমরা তাদের কাছে ন্যায়বিচার আশা করতে পারি না।’ ফিলিস্তিনিরা যেদিন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছিল সেদিনই ইসরায়েলের সেনাবাহিনী রায়টি ঘোষণা করে।
ইসরায়েলের হাতে গ্রেফতারের পর আহেদ তামিমি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। এর আগেও আহেদ আলোচনায় এসেছিলেন ইসরায়েল বিরোধী প্রতিরোধের জন্য। তাদের গ্রাম নবি সালেহ ইসরায়েলি দখলদারিত্ব বিরোধী সংগ্রামের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। জুন মাসেই ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে আহেদ তামিমির ২১ বছরের আরেক জ্ঞাতি ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়।








