ইয়েমেনের নোবেল পুরষ্কার জয়ী অধিকার কর্মী তাওয়াক্কোল কারমান বলেছেন, সৌদি আরব ও আবুধাবির যুবরাজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়েরের আইনগত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে ইয়েমেনে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদনটি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, গত সপ্তাহে প্রকাশিত জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং হুথি বিদ্রোহীদের যুদ্ধাপরাধের মতো কাজে সঙ্গে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাওয়াক্কোল কারমান একজন ইয়েমেনি সাংবাদিক। ২০০৫ সালে আরব বসন্তের সময় তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। ইয়েমেনিদের কাছে তিনি ‘লৌহ মানবি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা কারমান ২০১১ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি প্রথম আরব নারী যিনি এই পুরস্কার লাভ করেছেন।
আল জাজিরাকে কারমান বলেছেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এমন সব ঘটনা প্রবাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা ‘ভয়াবহ এবং নজিরবিহীন বিধি ভঙ্গের উদাহরণ।’ তার ভাষ্য, ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যে ‘প্রকৃত অবস্থার খুব সামান্যই উঠে এসেছে।’ তারপরও ইয়েমেন যুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ ও সেসবের সঙ্গে জড়িত প্রধান ব্যক্তিদের নাম থাকায় ওই প্রতিবেদনটির ভিত্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আবু ধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা যেতে পারে।
আলা জাজিরার বরাতে মিডিল ইস্ট মনিটর কারমানের ভাষ্য উল্লেখ করেছে, ‘সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের কাছে নিয়মিত অস্ত্র বিক্রি করে যাওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত নিন্দনীয়। সংশ্লিষ্ট দেশ দুইটির বিরুদ্ধে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা গেছে, তারা মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করেই সাধারণ ইয়েমেনি নাগরিকদের হত্যা করছে। ফলে যারা এসব অস্ত্র বিক্রি করে তারাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইয়েমেনিদের হত্যার সঙ্গে জড়িত।’
কারমান আরও বলেছেন, ‘ইয়েমেনের জনগণ একদিকে যেমন হুথিদের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে তেমনি উদ্ধার করার নামে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মতো দেশের ইয়েমেনে যুদ্ধ করতে যাওয়ারও বিরুদ্ধে। তারা ইয়েমেনে গেছে সহায়তা করার জন্য নয়, দেশটির কাছে থাকা সম্পদ লুটে নিতে।’








