পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কুয়েতি অতিথির মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কুয়েতি ব্যক্তি বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। ম্যানিব্যাগ চুরির এই ঘটনা ঘটে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিনিয়োগ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের শেষে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দেশটির প্রশাসন ক্যাডারের একজন সদস্য। ঘটনার সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত ছিলেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, মানিব্যাগ চুরির ঘটনায় প্রথমে দোষী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেত চায়নি পাকিস্তান। পরবর্তীতে কুয়েতিদের চাপে নাম-পরিচয় ও নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও চিত্র দেখাতে বাধ্য হন দেশটির কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট কুয়েতি ব্যক্তি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের যাওয়া একটি দলের সদস্য। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে কুয়েতিরা সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তিনি তার দিনার ভর্তি মানিব্যাগ খোয়া যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে জানান। অভিযোগ পেয়ে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ইকনোমিক অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের’ কর্মকর্তাদের কক্ষে মানিব্যাগ খোঁজা হয়। এমন কি কর্মচারীদের ডেকে এনে তাদের দেহ তল্লাসিও চলে। কিন্তু তখন কিছু পাওয়া যায়নি।
এরকম অবস্থায় দ্বারস্থ হতে হয়ে নিরাপত্তা ক্যামেরার। সভাস্থলের চিত্র ধারণ করা একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, জ্যেষ্ঠ ওই সরকারি কর্মকর্তা টেবিল থেকে মানুব্যাগটি তুলে তার পকেটে ঢুকাচ্ছেন। ছয় সেকেন্ডের ভিডিওচিত্রটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে ভিডিওটি দেখানোর পর তিনি দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হন এবং মানিব্যাগ ফেরত দেন।
পাকিস্তানিরা প্রথমে ম্যানিব্যাগ চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু কুয়েতিরা কিন্তু কুয়েতিরা দোষী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের জন্য চাপ দিতে থাকলে তারা তা জানাতে বাধ্য হন।
আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও অভিযোগ জানানো না হলেও পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।
কুয়েতি প্রতিনিধির মানিব্যাগ চুরির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরীর কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, বেশিরভাগ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিকতাবোধের এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে গত সরকারের আমলে।








