ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক গতকাল (৪ নভেম্বর) দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেছেন, নেতানিয়াহু গাজার পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়ে দুর্বল ও ভীত। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, সাবেক এই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গাজায় ৩০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার বিষয়ে গর্ব প্রকাশ করে বক্তব্য রেখেছেন গত মাসে। আর এ মাসে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গাজার বিষয়ে যথেষ্ট কঠিন না হওয়ার অভিযোগ করছেন।
চ্যানেল ১০ নামের ইসরায়েলি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এহুদ বরাক বলেছেন, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইহুদিদের বিভক্ত করে ফেলার তালে আছেন। তিনি ‘দুর্বল’ এবং ‘ভীত’। তিনি গাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ‘তাই তার বাড়ি চলে যাওয়া উচিত।’ নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের সমালোচক ও এককালে তার সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী এহুদ বরাকের দাবি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা সংগঠন হামাসের প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে আত্মসমর্পণ করেছেন। নেতানিয়াহুর সরকার ‘বিভ্রান্ত’ ও ‘দিকভ্রান্ত।’
মিডিল ইস্ট মনিটর লিখেছে, ২০০৮-২০০৯ সালে গাজাতে চালানো এক হামলায় ৩০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন। থানায় ইসরায়েলের চালানো ওই হামলায় নিহতরা ছিলেন পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত। গত মাসে এহুদ বরাক ওই ঘটনার বিষয়ে গর্ব প্রকাশ করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ৩০০ ফিলিস্তিনিকে সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যেই মেরে ফেলা হয়েছিল।
এদিকে গাজার বিষয়ে নেতানিয়াহু নতুন করে কোনও যুদ্ধে জড়াতে চান না জানিয়ে তার কিছু কারণ তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ লিখেছে, ইসরায়েল যদি গাজার দখল নিয়েও নেয় তাহলেও সেখানে ইসরায়েলকে স্বাগত জানানোর মতো কেউ থাকবে না। বরং গাজার ২০ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবস্থাপনা ইসরায়েলকেই সামলাতে হবে। তাছাড়া হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনগুলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত থাকবে। ফলে এখনই যুদ্ধের মাধ্যমে গাজায় উপস্থিত হতে চান না নেতানিয়াহু।
আরেকটি বিষয়ে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা। গত সপ্তাহে ওমানের সুলতান কাবুসের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের পর নেতানিয়াহু ও তার সহযোগীরা মনে করেন, মধ্যেপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ইসরায়েল নিকট ভবিষ্যতে এমন সমর্থন পেতে থাকবে। কাবুস বলেছিলেন, এবার সময় হয়েছে ইসরায়েলকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে মেনে নেওয়ার।








