ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেছে বিক্ষোভকারীরা। টানা দুই দিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার পর বুধবার বিক্ষোভকারীরা দূতাবাস এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ইরানপন্থী মিলিশিয়া নেতার নির্দেশের পরই অবরোধ প্রত্যাহার করে বিক্ষোভকারীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এখবর জানিয়েছে।
বিক্ষোভের মূল শক্তি পিএমএফ জোট ইরাকের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী আধাসামরিক বাহিনীগুলোকে নিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ইরাক সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমর্থকদের দূতাবাস কম্পাউন্ড ত্যাগের আহ্বান জানায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স। এতে বলা হয়, আপনাদের বার্তা পৌঁছে গেছে।
মিলিশিয়া নেতা ঘোষণা দিয়েছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদির সঙ্গে সমঝোতার পর বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে আইন প্রণয়নে সম্মত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসে হামলা চালায়। তারা ভবনের অভ্যর্থনা কক্ষে আগুন দেয়। এরপর দূতাবাসের বাইরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এদিন অনেকেই অভ্যর্থনা কক্ষের ছাদে উঠে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা অতিরিক্ত সেনারা টিয়ার গ্যাস ছুড়লেও বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মিলিশিয়া নেতার নির্দেশে দূতাবাস ছেড়ে চলে যায় বিক্ষোভকারীরা।
দূতাবাসে হামলার জন্য ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটে ট্রাম্প বলেন, আমাদের যে কোনও স্থাপনায় প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির পুরো দায়দায়িত্ব ইরানকে বহন করতে হবে। তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। এটা সতর্কতা নয়, এটা হুঁশিয়ারি।
এর আগে আরেক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন ইরাকের মার্কিন দূতাবাসে হামলার চেষ্টা করছে। এর পুরো দায়দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে ইরাকের মার্কিন দূতাবাসে চালানো ওই হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এ নিয়ে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বেহায়াপনা মাত্রা ছাড়িয়েছে। ইরাকের অন্তত ২৫ জন নাগরিককে হত্যার পর সৃষ্ট জনরোষের দায়ও তারা ইরানের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়।








