দেশ ছেড়েছেন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী ইরানের একমাত্র নারী কিমিয়া আলিজাদেহ। তিনি দাবি করেছেন, ভণ্ডামি, মিথ্যাচার, অবিচার ও চাটুকারিতার অংশ হতে চান না বলে ইরান ছেড়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেছেন, তার সাফল্যকে সরকার নিজের প্রচারণার কাজে ব্যবহার করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
২১ বছরের আলিজাদেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই দাবি করেছেন। তিনি কোথায় আছে তা জানাননি। তবে বিবিসি বলেছে, ধারণা করা হচ্ছে তিনি নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে তায়াকোন্দেতে প্রথম ইরানি নারী হিসেবে ব্রোঞ্জ পদক জয় করে ইতিহাস গড়েন তিনি।
গত সপ্তাহে আলিজাদেহ নিখোঁজ হওয়ার কথা জানাজানি হলে ইরানে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরানি আধা সরকারি এক বার্তার সংস্থার খবরে বলা হয়, ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিকে আলিজাদেহ ইরানের পতাকায় অংশগ্রহণ করবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইউক্রেনের বিমান ভূপাতিত করে ১৭৬ জন আরোহীকে হত্যার স্বীকারোক্তির পর ইরানের চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এই বক্তব্য তুলে ধরলেন আলিজাদেহ। তিনি লিখেছেন, ইরানে নিপীড়িত লাখো নারীদের একজন আমি। যাদেরকে তারা বছরের পর বছর ধরে নিপীড়ন করছে। তারা যা বলত আমাকে তা পরতে হতো, যা নির্দেশ দিতে সেই অনুযায়ী চলতে হতো। তারা যা শিখিয়ে দিতো তা মুখস্ত বলে যেতাম। আমাদের কোনও গুরুত্ব তাদের কাছে নাই, আমরা শুধু তাদের হাতিয়ার।
অলিম্পিক জয়ী এই নারী বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে তার সাফল্য সরকার প্রচারণার কাজে লাগালেও কর্মকর্তারা তাকে নিয়মিত অপমানজনক কথা বলতেন। যেমন, নারীদের পা মেলে ধরা সওয়াবের কাজ না।
ইউরোপের কোনও দেশ তাকে আমন্ত্রণ বা কোনও প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন এই নারী।








