বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে সিরীয় সরকার। রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অভিযান জোরদার করার অংশ হিসেবে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইদলিবে কাজ করা ত্রাণ সংস্থা হোয়াইট হেলমেটস জানিয়েছে, বিমান হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, আট বছর ধরে চলমান সিরীয় সংঘাতে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি রবিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এরপরও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। সিরীয় সংঘাতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া আর ইদলিবের বিদ্রোহীদের সমর্থন ও সহযোগিতা দিচ্ছে তুরস্ক।
হোয়াইট হেলমেটস জানায়, বুধবার আরিহা শহরের একটি সবজির বাজারে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া বাজারটি থেকে কয়েকশ মিটার দূরে একটি শিল্প এলাকার একটি ওয়ার্কশপেও ব্যারেল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেছেন, সবজির বাজারে হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তাদের একজন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। এছাড়া একটি গ্রামে সিরীয় বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন এক ব্যক্তি। আরও আগের হামলায় এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, বুধবারের হামলায় অন্তত ৮২ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন অভিযানের মুখে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী।
এর আগে আগস্টেও একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি হয়েছিল। চার মাসের সিরীয় সরকারের অভিযানে সহস্রাধিক বেসামরিক নিহতের পর ওই চুক্তি করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের মতে, রাশিয়া সমর্থিত সিরীয় বাহিনীর হামলার কারণে ইদলিবের দক্ষিণাঞ্চল জনমানবহীন হয়ে পড়েছে। এপ্রিলে অভিযান শুরুর পর কয়েক লাখ মানুষ পালিয়ে গেছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফানে দুজারিক বুধবার বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।








