জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই বছর ইয়েমেনের এক কোটি ৬০ লাখের বেশি নাগরিক ক্ষুধায় ভুগবে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে জানান তিনি।
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উৎখাত করে রাজধানী সানার দখল নেয় হুথি বিদ্রোহীরা। রিয়াদে নির্বাসিত হাদিকে আবারও ক্ষমতায় বসাতে ইয়েমেনে হামলা শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশের জোট। এই হামলায় রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ হারালেও দেশের বিস্তৃত এলাকার দখল এখনও ধরে রেখেছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। লড়াইটি ইয়েমেনি সহিংসতা হিসেবে দেখালেও আদতে সেটি ইরান-সৌদির ছায়াযুদ্ধ হিসেবে মনে করা হয়।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা এবং জরুরি ত্রাণ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক জানান, দেশটিতে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মানুষ খাবারের অভাবে মারা গেছে। এছাড়া আরও অন্তত ৫০ লাখ মানুষ মারাত্মক খাবার সংকটে রয়েছে।
জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের খাবারের ৯০ শতাংশই আমদানি করা হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে ইয়েমেনের খাবার আমদানিতে। কারন আমদানি করা খাবারের প্রায় পুরোটাই আসে বাণিজ্যিক চ্যানেলের মধ্য দিয়ে। ত্রাণ সংস্থাগুলোও দেশটির মানুষকে বাণিজ্যিকভাবে আমদানি করা খাবার কিনতে ভাউচার কিংবা অর্থ দিয়ে থাকে।
বিগত মার্কিন প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়েছে। আর এর জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।









