কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুররহমান বিন জাসিম আল-থানি সোমবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪ জানায়, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতায় দোহার আগ্রহ প্রকাশের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কাতারের সুসম্পর্ক রয়েছে ইরানের সঙ্গে। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছেন, তেহরান যদি চুক্তির শর্ত মোতাবেক তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বাদ দিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ফিরবে। কিন্তু ইরান বলছে, আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এনিয়ে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান সফর করছেন।
তেহরান সফররত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইরান বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। জোরজবরদস্তি ও বলপ্রয়োগের কোনও স্থান ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে নেই।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় নিজ দেশের ওপর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন কঠোর অবরোধের অবসান ঘটাতে সাফল্যের জন্য আব্দুর রহমান আলে সানিকে অভিনন্দন জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কাতারের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
জারিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় ইরান ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সাক্ষাতে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে তার দেশের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সকলপক্ষীয় ও ব্যাপকভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন এবং এ কাজে মৌলিক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে চায় কাতার। অচিরেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যমান সব সমস্যার সমাধান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানিয়েছে, কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসময় তিনি কাতারের আমিরের একটি বার্তা পৌঁছে দেন রুহানিকে।









