ইয়েমেনে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। সোমবার রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ নিজ দেশের এ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা রাজি হলে শিগগিরই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রিয়াদকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হুথি সৌদি আরবের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, রিয়াদের প্রস্তাবে নতুন কিছু নেই। তাদের আগ্রাসন বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এখন হুথির ওপর নির্ভর করছে। তাদের অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে, নাকি ইরানের স্বার্থকে।
রিয়াদের প্রস্তাবে সানা বিমানবন্দরও ফের খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই বিমানবন্দরটি হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এর উড়োজাহাজগুলোর যাতায়াত পথ নিয়ন্ত্রণ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ফলে বহু বছর ধরে সেখানে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে রয়েছে।
বিমানবন্দর খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদাহ বন্দর দিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও খাবার আমদানির সুযোগ দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি আরবের এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে অবশ্য সংশয় রয়েছে। কেননা, ২০২০ সালেও রিয়াদের এমন একটি পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। নতুন করে দেশটি এমন সময়ে এ প্রস্তাব দিলো যখন হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের জ্বালানি সম্পদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। কদিন আগেই হুথির ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগে যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় দেশটির ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ক্ষমতাচ্যুত হাদি। হুথিরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামের সামরিক আগ্রাসন শুরু করে সৌদি-আমিরাতের সামরিক জোট। সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত হয় লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় ইয়েমেন। সূত্র: আল জাজিরা, ভয়েস অব আমেরিকা।









