দুই বছরের মধ্যে এই নিয়ে চার দফায় নির্বাচন হলো ইসরায়েলে। বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনেও নেতানিয়াহু বা তার বিরোধীরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এক্সিট পোল বলছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেতে পারে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা দলটির পক্ষে সম্ভব হবে না।
নেতানিয়াহু প্রথমে বিপুলভাবে জেতার দাবি করলেও পরে বলেছেন, তিনি নির্বাচিত সব সদস্যের সঙ্গে কথা বলবেন। তার দলের মতাদর্শের কথা জানাবেন। সবার কাছে তিনি পৌঁছাবেন। তার মানে, জোটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছেন তিনি। তবে এবার জোট অত সহজে হবে না। বরং তা আগের বারের থেকেও কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে মঙ্গলবার রাতে। বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর দল ৩১ থেকে ৩৩ আসনে জিততে পারে। প্রধান বিরোধী দল জিততে পারে ১৮টির মতো আসনে। তার অর্থ সাবেক শরিক বেনেটের দলের সঙ্গে হাত মেলাতে হতে পারে নেতানিয়াহুকে। কিন্তু বেনেটের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক এখন খুবই খারাপ। তাই জোট করা কঠিন হবে। তিনি বা বিরোধীরা জোট করে সরকার গঠন করতে পারলে ভালো। অন্যথায় দুই বছরের মধ্যে পঞ্চম বারের মতো নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
বিরোধী নেতা ল্যাপিড বলেছেন, বিরোধীরা মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। ফলে নেতানিয়াহুর পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হবে না।
ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল বের হবে এই সপ্তাহের শেষ দিকে। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এক্সিট পোল যে ঠিক হবেই তার কোনও গ্যারান্টি নেই।
ডিডাব্লিউ-এর প্রতিনিধি তানিয়া ক্র্যামার জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, এবার নেতানিয়াহুর আসন সংখ্যা বাড়তে পারে। কারণ, তিনি করোনা পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিয়েছেন। প্রচুর পরিমাণ ভ্যাকসিন জোগাড় করেছেন। গত তিন মাসে ইসরায়েলের ৮০ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন পেয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনও দেশের এমন কৃতিত্ব নেই। তা সত্ত্বেও বুথফেরত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর আসন কমবে। সেক্ষেত্রে তার পক্ষে জোট গঠনের কাজটিও কঠিন হবে। সূত্র: ডিডাব্লিউ।









