সিরিয়া সরকার কর্তৃক অবরুদ্ধ মাদায়া শহরে ত্রাণ ও সহযোগিতা পৌঁছানোর অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরে সরকারি বাহিনীর অবরোধের কারণে খাদ্যাভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়া এ বিষয়ে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এ কথা জানা গেছে।
জাতিসংঘের মানবিকতা বিভাগের সমন্বয়ক জানান, আগামী দিনে মানবিক সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা।
জাতিসংঘ আরও জানায়, সরকার তাদের কেফ্রায়া ও ফুয়াহ শহরেও সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের শহর মাদায়া। শহরের বাসিন্দারা অপুষ্টিতে ভুগছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সেনাবাহিনী জুলাইয়ে শহরটিতে অবরোধ আরোপের পর থেকে জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহও কমে গেছে। রেডক্রস জানিয়েছে, নিজেদের উষ্ণ রাখতে শহরের বাসিন্দারা প্লাস্টিক পোড়াচ্ছে।
সিরিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বুধবার জানায়, বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত মাদায়া শহরে শিশুসহ অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আসাদ বাহিনীর অবরোধ ও পুঁতে রাখা মাইনের কারণে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। লেবাননের শিয়া গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ আসাদ বাহিনীকে সহযোগিতা দিচ্ছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়,মাদায়াতে অন্তত তিনশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্ট জানান, মাদায়ার প্রায় ৪০ হাজার মানুষের খাবার ও ওষুধের যোগান নেই বললেই চলে।
দামেস্ক’র রেড ক্রসের মুখপাত্র পাওয়েল মাদায়ার পরিস্থিতি ভয়ানক বলে জানান। তিনি বলেন, ‘মানুষ ক্ষুধার্ত এবং প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও নেই বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানি।’ স্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, লোকজন বেঁচে থাকার জন্য ঘাস খাওয়া শুরু করেছে। ডা. খালেদ মোহাম্মদ বলেন,‘আমরা অসুস্থদের দুধ সরবরাহ করতে পারছি না। আজও (বুধবার) অপুষ্টির কারণে দশ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’
সিরিয়ার আসাদবিরোধী জাতীয় জোট মাদায়ার পরিস্থিতিকে ‘মানবিকতার বিপর্যয়’ হিসেবে সতর্ক করেছে।
জানুয়ারিতে জাতিসংঘের উদ্যোগে জেনেভাতে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা। গত ৫ বছর ধরে চলমান সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
/এএ/








