মার্কিন এবং ন্যাটোর সেনারা যখন আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে, তখন একের পর এক জেলা বিনা প্রতিরোধেই দখলে নিচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবনতিতে তালেবানের উত্থান ঠেকাতে এবার পাল্টা হামলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকারি বাহিনী। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির উপদেষ্টার বরাতে এ খবর জানিয়েছে রাশিয়ার আরআইএ এজেন্সি।
সেপ্টেম্বরের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোটের সেনারা। সম্প্রতি দীর্ঘ ২০ বছরের অধ্যায় শেষ করছে জার্মানিও।
একদিকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার, অন্যদিকে আফগানিস্তানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তালেবান গোষ্ঠী। সম্প্রতি দেশটির উত্তরাঞ্চলে এ পর্যন্ত ৫০টি জেলা বিনা প্রতিরোধে দখলে নিতে সমর্থ হয়েছে তারা। এতে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
তালেবান বিদ্রোহীদের কেন থামাতে পারছে না আফগান বাহিনী, এ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও উত্তরাঞ্চলের হাতছাড়া জেলাগুলো পুনরুদ্ধারে সম্মুখ অভিযানের ব্যাপক পরিকল্পনা সাজিয়েছে সরকারি বাহিনী। আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামাদুল্লাহ মোহিব সোমবার আরআইএ এজেন্সিকে সাক্ষাৎকারে জানান, 'সরকার তালেবানের এ ধরনের উত্থান আশা করেনি। তবে অবশ্যই পাল্টা আক্রমণে নামছি আমরা'।
তালেবানের হামলার আশঙ্কায় এক হাজারের বেশি আফগান নিরাপত্তা সদস্য পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তানে। সোমবার এ খবর দিয়েছে তাজিকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি। ইতোমধ্যে তালেবান ঘোষণা দিয়েছে, তাজিকিস্তানের সঙ্গে আফগান সীমান্তের ৬টি জেলা পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে।
এদিকে কান্দাহার প্রদেশের এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, 'এখানে একটি সামরিক হেলিকপ্টার পাঠানো হলেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু তারা কেন তালেবানের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে না? তারা যখন আমাকে হত্যা করবে তখন সন্তানদের কে দেখবে?









