কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের লক্ষ্যে উত্তর সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে তুরস্ক। দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বৃহস্পতিবার এখবর প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান দেশে সমর্থন বাড়বে এবং কুর্দিদের লাগাম টেনে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়বে।
অক্টোবরের শুরুতে এরদোয়ান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কুর্দি ওয়াইপিজির বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করার। আঙ্কারা কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ওয়াইপিজিকে হুমকি মনে করে। সামরিক প্রস্তুতি চলমান থাকার মধ্যেই এরদোয়ান কঠোর কণ্ঠে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তবে নির্দিষ্টভাবে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেননি।
বুধবার আনাদোলু এজেন্সি জানায় আজারবাইজান থেকে দেশে ফেরার পথে এরদোয়ান বলেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার মুখে রয়েছে তুরস্ক। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সেনা মোতায়েন বাড়ানোর বিষয়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সিরিয়ায় দুই তুর্কি পুলিশ সদস্য নিহতের পর ওয়াইপিজির অবস্থানে গোলাবর্ষণ করে আসছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্র নিহতের নিন্দা জানিয়ে উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতি অঞ্চলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান রেখেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই তুর্কি কর্মকর্তা জানান, অভিযান পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের ৯১০ কিলোমিটারের দুই-তৃতীয়াংশ নিশ্চিদ্র করা। আইন আল-আরব বলে পরিচিত কোবানি শহরের দক্ষিণাঞ্চল দখলের চেষ্টা করবে তুরস্ক। এতে করে ইউফ্রেতাস নদীর পশ্চিম ও পূর্বে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে।
তুর্কি কর্মকর্তাদের মতে, আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে মেনাগ বিমানঘাঁটি দখল করা। আজাজ শহরের এই ঘাঁটি থেকেই ওয়াইপিজি যোদ্ধারা তুর্কি বাহিনীর ওপর হিট অ্যান্ড রান হামলা চালাচ্ছে।
গত মাসে তুর্কি সেনাবাহিনী সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আরও মোতায়েন করেছিল। রাশিয়া ও ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে এরদোয়ান এই পদক্ষেপ নেন। এর লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শেষ ক্ষেত্রে অভিযান ঠেকানোর।









