মধ্যপ্রাচ্যে
র ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় ব্যাপক আকারে বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা হয়েছে। হামলায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের আইন লঙ্ঘন হয়েছে। এতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাজ্যের অস্ত্র রফতানি এবং এতে দেশটির সামরিক বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্যানেল ইনভেস্টিগেশনে যুক্তরাজ্যের এ ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানের ওপর ৫১ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জাতিসংঘের প্যানেল বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনের একটি কপি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গত সপ্তাহে পাঠানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানও প্রতিবেদনটির একটি কপি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে বেসামারিক নাগরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। এ অভিযানে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত ও শরণার্থী, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বেসামরিক সমাবেশ, বাসসহ বেসামরিক যানবাহন, বেসামরিক লোকের আবাসিক এলাকা, স্বাস্থ্যসেবা, স্কুল, মসজিদ, মার্কেট, কারখানা, খাদ্যের গুদামঘর এবং সানায় বিমানবন্দর, হুদাইদাহ বন্দর ও অভ্যন্তরীন ট্রানজিট রুটসহ অত্যাবশ্যকীয় বেসামিরক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ অভিযানে ১১৯টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে, সরাসরি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের প্যানেল বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারেননি। তারা স্যাটেলাইটে প্রাপ্ত ছবি দেখে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম ক্রেতা হচ্ছে সৌদি আরব। গত বছর মার্চ মাসে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের সমর্থনে দেশটিতে বিমানহামলা শুরু করে সৌদি আরব। ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা যাতে ক্ষমতা দখল না করতে পারে সেজন্য ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের পক্ষে দাঁড়ায় সৌদি আরব।
সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান বার বার প্রত্যাখ্যান করে আসছে যুক্তরাজ্য। সৌদি আরবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপকতাকে অস্বীকার করে আসছে যুক্তরাজ্য। ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলায় যুক্তরাজ্যের সামরিক সদস্যরা কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে দেশটি।
তবে ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলায় সরাসরি যুক্তরাজ্যের কোনও সেনা জড়িত নয় এবং পূর্বে চুক্তি অনুযায়ী সহযোগিতা করছে বলে দাবি করেছে দেশটি। যুক্তরাজ্য আরও দাবি করেছে, বিশ্বের সবচেয়ে স্বচ্ছ অস্ত্র রফতানি ব্যবস্থা তাদের রয়েছে। জাতিসংঘের এ প্রতিবেদন ছাড়াও দেশটির একটি সংসদীয় কমিটি অস্ত্র রফতানি নিয়ন্ত্রণে ওপর তদন্ত করছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এএ/








