সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, ইসরায়েলকে তারা শত্রু নয়, সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন। বৃহস্পতিবার একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বিরোধের সমাধান চান তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির সরবরাহকৃত অনুলিখনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
সৌদি আরবের ৩৬ বছর বয়সী ডি ফ্যাক্টো নেতা বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড একটি বড় ভুল। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে অন্যায়ভাবে দায়ী করা হচ্ছে।
এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজ বলেন, আমরা আশা করি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সংঘাত সমাধান হোক। ইসরায়েলকে আমরা শত্রু হিসেবে দেখি না। আমরা তাদেরকে সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে বিবেচনা করি। অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলোতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে আমাদের কিছু বিষয় সমাধান করতে হবে।
সৌদি আরব বারবার বলে আসছে তারা কয়েক দশক পুরনো আরব লিগের অবস্থান মেনে চলবে। যে অবস্থানে ফিলিস্তিন ইস্যু মীমাংসিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার কথা বলা হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই সৌদি আরবের। কিন্তু ২০২০ সালে সৌদি আরবের উপসাগরীয় মিত্র বাহরাইন ও সংযু্ক্ত আরব আমিরাত ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তির আওতায় এই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা এটিকে পিছনে ছুরিকাঘাত বলে আখ্যায়িত করে।
ইসরায়েলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে কিছু দিন ধরে। ইরাকে কয়েক দফার আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের বিষয়ে যুবরাজ বলেন, তারা আমাদের প্রতিবেশী। চিরকাল থাকবে। আমরা তাদের থেকে মুক্ত হতে পারবো না, তারাও আমাদের কাছ থেকে মুক্ত হতে পারবে না। ফলে আমাদের উভয়ের জন্য মঙ্গল হলো সমাধানে আসে এবং সহাবস্থানের উপায় বের করা।









