সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কোনও কিছু নিয়ে তাকে ভুল বুঝলে তার কিছু যায় আসে না। বৃহস্পতিবার প্রকাশ হওয়া মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক মান্থলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন সৌদি যুবরাজ। তিনি বলেন, বাইডেনের উচিত হবে আমেরিকার স্বার্থের দিকে নজর দেওয়া।
বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক দেশ সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সহযোগী। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর থেকে রিয়াদের মানবাধিকার রেকর্ড, বিশেষ করে ইয়েমেন যুদ্ধ এবং ২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে চিড় ধরে।
সম্প্রতি সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, রিয়াদ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ কমাতে পারে। দেশটির ডি ফ্যাক্টো শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে দ্য আটলান্টিক জানতে যায় বাইডেন তাকে ভুল বুঝছেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, ‘সহজভাবে, আমি পরোয়া করি না’। বাইডেনের আমেরিকার স্বার্থের দিকে নজর দেওয়া উচিত মন্তব্য করে সৌদি যুবরাজ বলেন, ‘আমেরিকায় আপনাদের জ্ঞান দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই। একই বিষয়টি বিপরীতও দিকেও সত্যি।’
বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেয়। তাতে বলা হয়, খাশোগি হত্যাকাণ্ড তদারকিতে ছিলেন সৌদি যুবরাজ। তবে এই অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
সৌদি যুবরাজ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে খাশোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনায় তার অধিকার ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। বলেন, ‘মনে হয়েছিল আমার ওপর মানবাধিকার আইন প্রযোজ্য নয়... সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার আর্টিক্যাল ১১ অনুযায়ী যেকোনও ব্যক্তিই দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দোষ।’
ইস্তানবুল দূতাবাসে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর পশ্চিমা দুনিয়ায় সৌদি যুবরাজের সংস্কারক ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সূত্র: রয়টার্স









