ইরান সফরে গেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। মঙ্গলবার ভোরে তেহরানে পৌঁছান তিনি। সিরিয়া ইস্যুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে আলোচনার জন্য এ সফরে গেছেন এরদোয়ান। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সিরিয়ার টানা ১১ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানে কথিত ‘আস্তানা শান্তি প্রক্রিয়ার’ অংশ হিসেবে কয়েক বছর ধরে আলোচনা চালাচ্ছে তুরস্ক, রাশিয়া ও ইরান। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মূল পৃষ্ঠপোষক রাশিয়া ও ইরান। অন্যদিকে আসাদবিরোধী ফ্রি সিরিয়ান আর্মির মতো বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে তুরস্ক। সম্প্রতি সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরুর হুমকি দিয়েছেন এরদোয়ান। অন্যদিকে সিরিয়ায় তুরস্কের যেকোনও সামরিক পদক্ষেপ এই ‘অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে’ বলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। এমন পরিস্থিতিতেই তেহরানে মিলিত হচ্ছেন তিন দেশের নেতারা।
রুশ বিশ্লেষক ভ্লাদিমির সোটনিকভ বলেন, এই শীর্ষ সম্মেলনের সময়টি কাকতালীয় নয়। রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযান’ চালাচ্ছে, ঠিক সেভাবে সিরিয়ায় ‘বিশেষ অভিযান’ চালাতে চায় তুরস্ক।
ইরানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সিরিয়া ইস্যু ছাড়াও বিশেষ করে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলবেন পুতিন। ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউক্রেনের শস্য রফতানি নিয়ে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ।
দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর উপকূলের বন্দর এলাকা দিয়ে দেশটির বেশিরভাগ খাদ্যশস্য রফতানি হতো। তবে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বন্দর এলাকাটি অবরুদ্ধ হয়ে আছে। তবে কৃষ্ণ সাগর হয়ে ইউক্রেনীয় খাদ্যশস্য পরিবহন পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সপ্তাহের শেষের দিকে রাশিয়া, ইউক্রেন, তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।









