ইরানের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি পুনরুদ্ধারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খসড়ার ব্যাপারে তেহরানের প্রতিক্রিয়ার উত্তর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার বাইডেন প্রশাসনের দেওয়া ওই প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া উত্তর পর্যালোচনা করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ইতোমধ্যেই এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। সফল কূটনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে এই দেশটির সুনাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কাতারের মধ্যস্থতায় নিরাপদে আফগানিস্তান ছাড়ে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গেও তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে ইরানের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে দোহা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনা করছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে সংযুক্ত একটি আউটলেট নুরনিউজ। রবিবার তাদের টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হতে অন্তত এই সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত সময় লেগে যাবে।
ইরানে কর্ম সপ্তাহ শুক্রবার শেষ হয়, তাই আগামী ২ সেপ্টেম্বরের আগে এ ইস্যুতে দেশটির প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
ইরানের পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের একটি বড় দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে যেন দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র নাম অপসারণ করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তেহরান ওই দাবি থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস। তিনি বলেন, ইরান তার কিছু দাবি থেকে সরে এসেছে। যেমন সন্ত্রাসী তালিকা থেকে আইআরজিসি-র নাম বাদ দেওয়া।
এদিকে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঠানো প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান যে জবাব দিয়েছে সেটিকে যৌক্তিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংস্থাটির পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া যুক্তিসঙ্গত।









