লিবিয়া পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি হয়েছে। চলমান সংকটে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের জন্য সম্ভবত দেশটির বিবদমান সবগুলো পক্ষই দায়ী। এসব যুদ্ধাপরাধের মধ্যে নির্যাতন, ধর্ষণের মতো ঘটনাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করেছে জাতিসংঘ। এতে মূলত ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের ঘটনাবলী তুলে ধরা হয়েছে।
এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনাবলীর মূল হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিশ্ব সংস্থাটি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রধান জায়েদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, লিবিয়ার সরকারি পক্ষ এবং বিরোধী পক্ষ উভয়েই বহু ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত।
লিবিয়া সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানা পদক্ষেপও উল্লেখযোগ্য কোনও ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারেনি। সংঘাত রয়েই গেছে। তবে সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের ওপরই জোর দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো।
গত মাসেই জাতিসংঘ সমর্থিত ঐকমত্যের সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে দেশটির পার্লামেন্ট। চলমান অস্থিরতা নিরসনে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নতুন ওই সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে সম্প্রতি লিবিয়ার তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মর গাদ্দাফির পতনের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। ৪২ বছর ধরে এক হাতে দেশটি শাসন করেন গাদ্দাফি।
কয়েকদিন আগেই লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের সমন্বয়ক আলি আল-জাতারি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তাদের হিসাব অনুযায়ী আগামী মার্চের মধ্যে লিবিয়ায় জীবন রক্ষাকারী আর কোনও ওষুধ পাওয়া যাবে না। পাঁচ বছর আগে মোয়াম্মার গাদ্দাফিকে উত্খাতে সৃষ্ট অরাজকতায় রাষ্ট্রীয় হাসপাতালগুলোর বেহাল দশায় পড়েছে।
লিবিয়ার ৪ লাখ ৩৫ হাজার গৃহহীন মানুষ স্কুল ও বিভিন্ন সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় আড়াই লাখ মানুষ উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশায় অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দেশের অস্থিরতায় সবচেয়ে মাশুল গুনতে হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে। বেনগাজিতে প্রায় এক ডজন হাসপাতালের মধ্যে মাত্র একটি অথবা দুইটিকে সচল অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে।
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা জানান, ‘যেখানে প্রতিদিনই কোন না কোন জায়গায় যুদ্ধ চলছে সেখানে হাসপাতালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সত্যিই কঠিন কাজ। এই মুহুর্তে লিবিয়ায় প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ’
গাদ্দাফি পরবর্তী লিবিয়ায় মানুষ দ্রুত পরিবর্তনের যে আশা করেছিল। বাস্তবিক অর্থে তেমন পরিবর্তনের ছোঁয়া সেখানে আসেনি। অনেক লিবীয় মনে করেন, নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পর সে অর্থে কোনও অগ্রগতি তারা দেখতে পাননি। আগামীতেও তা কতটা দেখা যাবে সেটা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
গাদ্দাফি বিরোধী আন্দোলনের প্রথম কাতারে থাকা একজন ব্যক্তি বিলাল বেতামের। তার ভাষায়, যে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা দীর্ঘদিনের ঘুণে ধরা শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছি, বিপ্লবোত্তর লিবিয়ায় তার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা যে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আশা করেছিলাম নতুন সরকার আসার পর তার ছিটেফোঁটাও হয়নি। এ অবস্থায় আমাকে বলতেই হচ্ছে নতুন এক বিপ্লব দরকার। সবকিছু ধুয়ে মুছে পরিচ্ছন্ন এক লিবিয়া দেখতে এর চেয়ে বিকল্প কিছু আর হতে পারে না।
যে বেনগাজি থেকে আন্দোলনের শুরু সেখানকার বর্তমান চিত্র এখন ভিন্ন। এখানে হয়নি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন। উল্টো এটা এখন খুন, লুণ্ঠনের শহরে পরিণত হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি।
/এমপি/








