ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দোল্লাহিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধের বিস্তৃতি অনিবার্য হয়ে পড়েছে। চলমান সংঘাতটি মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) তিনি এ কথা বলেছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আলে সানির সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গাজার বেসামরিক বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে এই যুদ্ধের বিস্তৃতি অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের মুক্ত করতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে কাতার। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হামাসের হামলা ১৪০০ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, হামাস-শাসিত গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনে দশ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪০ শতাংশ শিশু।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামাসকে আর্থিক ও সামরিকভাবে সহযোগিতা করছে ইরান। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে তাদের হামলাকে ‘বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে তেহরান।
ইরানি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে সমর্থন করাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখে ইরান। কিন্তু গোষ্ঠীগুলো স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে।
লেবাননের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকেও সমর্থন দেয় ইরান। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ৭ অক্টোবরের পর থেকে সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলা ঘটছে।
সিরিয়া ও ইরাকে মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে গত কয়েক দিনে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠী এসব হামলা চালাচ্ছে।
গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ছড়িয়ে ঠেকাতে ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার সৌদি আরবের রাজধানীতে আরব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি সম্মেলনে যোগ দেবেন রাইসি। এতে গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবি তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন দেওয়াকে পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।









