রাফাহ ক্রসিংয়ের মিসরীয় অংশ পরিদর্শনের পর মানুষের অকল্পনীয় দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিংসঘের নিরাপত্তা পরিষদের দূতেরা। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দূতেরা উপত্যকায় ত্রাণ প্রবেশের একমাত্র পথটি পরিদর্শন করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা দূত ঝ্যাং জুনকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, যারা গাজায় যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে সেই সব দেশের প্রতি তার কোনও বার্তা রয়েছে কি না। জবাবে তিনি এক কথায় বলেছেন, ‘আর সহ্য করা হবে না’।
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বেশিরভাগ গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের সংঘাতে অবিলম্বে এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। উপত্যকার ২৩ লাখ মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে।
ইসরায়েলকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে আটকে দিয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগে নিরাপত্তা পরিষদের এক ডজন দূত রাফাহ পরিদর্শন করেন। এর একদিন আগে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন, অবরুদ্ধ উপত্যকায় লাখো মানুষ অনাহারে রয়েছে।
জাতিসংঘ দূতেরা আল-আরিশ শহরে উড়োজাহাজ থেকে অবতরণের পর জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করে। এরপর তারা ৩০ মাইল দূরের রাফাহ-এর উদ্দেশে যাত্রা করেন।
ইউএনআরডব্লিউএ-এর ব্রিফিংয়ের পর ইকুয়েডরের জাতিসংঘ দূত হোসেডে লা গাসকা বলেছেন, শব্দে বর্ণনা করার চেয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ।
আমিরাতের দূত লানা নুসেইবাহ বলেছেন, দূতদের জানানো হয়েছে গাজার বাসিন্দারা অপুষ্টি, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, পানি ও খাবারের অভাব এবং সংঘাতের কারণে মারা যাচ্ছে।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন হামলা চালায় হামাস। এই হামলায় ১২০০ জন নিহত ও ২৪০ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জবাবে গাজায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালনা করে আসছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার বেশিরভাগ তাদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন।
ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ্পে লাজ্জারিনি বলেছেন, অনেকদিন অনাহারে থাকা গাজার বাসিন্দারা তাদের বিতরণ কেন্দ্র লুট করেছে, রাস্তায় ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে দিয়েছে পরিবারের জন্য খাবার নিশ্চিত করতে।
তিনি বলেন, সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয়। গাজায় অনাহার দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ কংক্রিটে ঘুমাচ্ছেন।
রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেঞ্জিয়া গাজার পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে তাদের উচিত বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া ও ফিলিস্তিনিদের সম্মান নিশ্চিত করা।
রাফাহ ক্রসিং দিয়ে সীমিত আকারে ত্রাণ ও জ্বালানি প্রবেশ করছে গাজায়। কিন্তু ত্রাণ সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় তা নগণ্য।
জাতিসংঘ দূতেরা যখন রাফাহ সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন তখন রাস্তার পাশে শত শত ট্রাক দাঁড়িয়েছিল। এগুলো গাজায় ত্রাণ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।









