ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে দুটি জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) গোষ্ঠটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
হুথিদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সামুদ্রিক প্লেন ব্যবহার করে জায়নবাদী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসূত্র থাকা দুটি জাহাজে সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
বিবৃতিতে জাহাজ দুটির নাম সোয়ান আটলান্টিক ও এমএসসি ক্লারা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোয়ান আটলান্টিক নরওয়েজিয়ান মালিকানাধীন জাহাজ।
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনে হামাস শাসিত গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও আক্রমণের প্রতিবাদে এসব হামলা চালাচ্ছে তারা। প্রায় প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বড় কয়েকটি জাহাজ কোম্পানি। সোমবার ব্রিটিশ কোম্পানি বিপি লোহিত সাগর এড়িয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সোয়ান আটলান্টিকে হামলার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই হুথিদের দায়ী করেছিলেন। জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল, অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করেছে, এতে তাদের এক ক্রু আহত হয়েছেন।
এর আগে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের উপকূলের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে একটি নৌযানের কাছে সম্ভাব্য বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছিল ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। তারা প্রণালিতে আরও দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিল।
সুয়েজ খাল দিয়ে নৌযানগুলো লোহিত সাগরে যায়। এটি বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য এই নৌপথ দিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে লেনদেন হয়। এই নৌপথ ব্যবহারে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমে।
ইসরায়েল গাজায় আক্রমণ বন্ধ না করা পর্যন্ত নৌযানে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল হুথিরা। তবে শনিবার তারা বলেছে, গাজার মানবিক সংকট নিরসনে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেওয়া হলে উত্তেজনা নিরসনে ভূমিকা রাখবে। তারা আরও জানিয়েছে, লোহিত সাগরে তাদের অভিযান নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে।









