ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য হামাসের ইচ্ছা এবং দৃঢ় সংকল্প তার সুড়ঙ্গ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন হামাসের রাজনৈতিক শাখার ডেপুটি হেড সালেহ আল-আরোরি। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির ‘ফেস টু ফেস’ অনুষ্ঠানের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। এসময় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবর হামাসের পরিচালিত অভিযানের পিছনে কী কী কারণ ছিল সেসব নিয়েও আলোচনা করেন আরোরি। এক প্রতিবেদনে গণমাধ্যমটি এই খবর জানিয়েছে।
ওই সাক্ষাৎকারে সালেহ আল-আরোরি বলেন, ‘হামাস যোদ্ধাদের ধারণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—তারা ন্যায্য অধিকার এবং ন্যায়সঙ্গত কারণে লড়ছে। আর এ ধারণায় বিশ্বাসীরা এই বোধের জন্য আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত। আমাদের কাছে এটিই সবচেয়ে বড় বিষয় এবং তা সুড়ঙ্গ ও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য…যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মধ্য এই ইচ্ছাশক্তি এবং দৃঢ় সংকল্প থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও কিছুই আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।’
হামাসকে ধ্বংস করতে পারবে না ইসরাইল
সাক্ষাৎকারে আরোরি আরও বলেন, ইসরায়েল হামাসকে ধ্বংস করতে পারবে না এবং এটিকে ধ্বংস করতে দেশটির সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের একটি ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ এবং এর যোদ্ধারা মনোবল ও দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের লড়াই চালিয়ে যাবে।
‘আল-আকসা স্টর্ম’ ফিলিস্তিনি সংগ্রামের অংশ
আরোরি বলছিলেন, অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার সংগ্রামের অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যে সম্ভব না, বিশ্বকে তা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য এই আক্রমণ।
এ বিষয়ে আরোরি বলেন, ‘৭ অক্টোবরের ঘটনাটি বিরল কিছু নয়। এটি ছিল…ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জনের এবং বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো নিজেদের রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বাঁচার লড়াইয়ের অংশ। সুতরাং এটি ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের আরেকটি পর্যায়…তবে এটি একটি বড় এবং শক্তিশালী পর্যায়, যা ইসরায়েলি শাসনকে একটি বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরোধকারী দলগুলোর এ অপারেশন বিস্ময় ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। এটি ইসরায়েলি সমাজ এবং সমগ্র বিশ্বকে জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্য ছিল। এই মানুষগুলো অধিকারের দাবিতে চুপ করে থাকেনি এবং এটি কত বড় এবং কতটা বিপজ্জনক তা প্রত্যেকবার বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর ক্ষমতা তাদের আছে। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি অবহেলা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।’
হামাসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই অভিযান তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘একটি মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়’।
আরোরি আরও বলেছেন, অপারেশন আল-আকসা স্টর্মের পিছনে যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে ইসরায়েলি শাসকদের চরমপন্থি নীতি অন্যতম। এসব নীতির মধ্যে অন্যতম বসতির সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত আল-কুদস শহরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণকে অস্থিতিশীল করাসহ গাজা উপত্যকায় বছরের পর বছর ধরে আরোপিত অবরোধ।
বর্তমান ইসরায়েলি শাসন সীমা পার করে ফেলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘এর সামনে এখন আর চুপ থাকার কোনও উপায় নেই।’
শান্তির সুযোগ নষ্টে বিশ্ববাসীর দায়
ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবহেলার নিন্দা জানিয়ে আরোরি বলেছেন, বিশ্ববাসীর এমন নীরবতা সংঘাত সমাধানের সম্ভাব্য সুযোগ নষ্ট করছে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসকের কয়েক দশক ধরে চলা সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় গত ৭ অক্টোবর দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ নামে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এর জবাবে ওই দিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
এ হামলা শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৫২ হাজারের বেশি আহত হয়েছে।
এই ভূখণ্ডে ‘পূর্ণ অবরোধ’ আরোপ করেছে তেল আবিব। সেখানে বসবাসকারী ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিদের জন্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও পানি বন্ধ করে দিয়েছে তারা।








