ইসরায়েলের অংশগ্রহণ ছাড়াই গাজায় যুদ্ধবিরতির নিয়ে কায়রোতে দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হামাস। সোমবার (৪ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
মিত্র দেশ ইসরায়েলকে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের দুর্দশা আরও না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাদের এ আহ্বান উপেক্ষা করেই ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গাজায় টানা পাঁচ মাস ধরে চলমান এ যুদ্ধে একটি বর্ধিত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রবিবার কায়রোতে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে এই আলোচনা শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী রবিবার থেকে রমজান মাস শুরু হবে। আর এর আগেই কার্যকরী ও বর্ধিত একটি যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার রয়টার্সকে হামাসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মিসরে দখলদার প্রতিনিধিদলের উপস্থিত না থাকার বিষয়টি উপেক্ষা করেই কায়রোতে দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে কায়রোতে দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় বসতে বা এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।
এর আগে, একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছিল, ইসরায়েল এই আলোচনা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখবে। কেননা, হামাসের কাছে আটক থাকা সব জীবিত জিম্মিদের নামের তালিকা প্রকাশ করার অনুরোধ করা হলে তা প্রত্যাখ্যান করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। হামাস বলেছিল, তাদের দেওয়া সব দাবি মেনে নেওয়া হলেই জিম্মিদের তালিকা তাদের দেওয়া হবে।
ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং এই আলোচনার পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র বলছে, একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে তারা। ইতোমধ্যে একটি চুক্তিতে ইসরায়েল কার্যকরভাবে সম্মত হয়েছে। আর সেটি এখন শুধু হামাসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেছেন, ‘হামাস যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছে। ঠিক আছে। আলোচনার টেবিলে একটি চুক্তি তো রয়েছেই। তবে আমরা যেমনটা বলেছি, এখন শুধু হামাসকে সেই চুক্তিতে রাজি হতে হবে।’
এসময় ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আসুন আমরা একটি যুদ্ধবিরতিতে যাই। আসুন জিম্মিদের আমরা তাদের পরিবারের সঙ্গে আবারও মিলিত এবং গাজার জনগণকে অবিলম্বে ত্রাণ বিতরণ করি।’








