ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে শহরগুলোতে। হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে রবিবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় জেরুজালেমের রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন যেন প্রকাশ্যে উঠে আসছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
জেরুজালেমে, বেগিন বুলেভার্ড নামে শহরের প্রধান উত্তর-দক্ষিণ মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এসময় নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দেন তারা। তাদের সরাতে দুর্গন্ধযুক্ত জল-কামান ব্যবহার করে পুলিশ।
রবিবার সকাল ইসরায়েলি পার্লামেন্টের চারপাশের রাস্তায় জড়ো হয় জিম্মিদের স্বজনসহ হাজারো বিক্ষোভকারী। গাজায় হামাসের হাতে বন্দি প্রায় ১৩০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা। জিম্মি মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করবেন তারা।
নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যেই গণতন্ত্রের শত্রুরা রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন তার সমালোচক ও বিক্ষোভকারীরা। তার জোট অতি-জাতীয়তাবাদী ইহুদি দলগুলোর সমর্থনের উপর নির্ভর করে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডেভিড অ্যাগমন। নেতানিয়াহু যখন প্রথম নির্বাচিত হন তখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালনা করতেন।
তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে যখন তিনি নেতানিয়াহুর প্রথম চিফ অফ স্টাফ ছিলেন, তখন থেকেই তাকে চেনেন। তিন মাস পর তিনি অবসরে যান। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ইসরায়েলের জন্য বিপজ্জনক নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু বলতেন তিনিই একমাত্র তার দেশকে নিরাপদ রাখতে পারেন। অনেক ইসরায়েলি তাকে বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে সমস্ত হিসেব-নিকেশ পাল্টে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিক্ষোভকারীরা।









