ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গ্যান্টজ। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) এ প্রস্তাব দেন তিনি। এর ফলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে এবং যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার ঐক্যে ফাটল প্রকাশ্যে আসছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে নেতানিয়াহুর পর্যাপ্ত আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মে মাসে জারি করা একটি আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন গ্যান্টজ। ওই সময় তিনি দাবি করেছিলেন,আগামী ৮ জুনের মধ্যে নেতানিয়াহু সরকারকে গাজা নিয়ে যুদ্ধ–পরবর্তী পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে নেতানিয়াহু তা তুলে ধরতে ব্যর্থ হলে জোট সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। অবশ্য নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর ক্ষমতাসীন জোটের সরকার টিকিয়ে রাখার মতো আইনপ্রণেতা রয়েছে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই খ্যাতি রয়েছে নেতানিয়াহুর। তবে গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে নিজের দেশ তো বটেই বর্হিবিশ্বেও ক্রমবর্ধমান জন অসন্তোষের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের পর থেকেই, এমনকি তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে নেতানিয়াহুকে।
৭ অক্টোবরের পর নেতানিয়াহু সরকারে যোগ দেন গ্যান্টজ। যুদ্ধ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে তিনি গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণ পরিচালনা করতে সহায়তা করেছেন। কিন্তু যুদ্ধের সময়সীমা বাড়তে থাকায় গ্যান্টজের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে তার মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দল।
সেকারণেই পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপন করেছেন তিনি। তবে নেতানিয়াহুর দল জানিয়েছে, সরকার ভেঙে দিলে তা যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে বরং আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ইসরায়েলে এই মুহূর্তে বেশ জনপ্রিয় গ্যান্টজ। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলে নির্বাচন হলে তিনিই সর্বাধিক ভোট পাবেন।
ইসরায়েল পার্লামেন্টের ১২০ আসনের মধ্যে গ্যান্টজের মধ্যপন্থি দলের রয়েছে ৮টি আসন। আর নেতানিয়াহুর দলের রয়েছে ৬৪টি আসন।








