লেবাননে যুদ্ধ চায় না ইসরায়েল। তবে যুদ্ধ শুরু হলে প্রতিবেশী দেশটিকে প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। বুধবার (২৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিন গ্যালান্ট আরও বলেন, আমাদের সামর্থ্য রয়েছে লেবাননকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার, তবে আমরা তা করতে চাই না।
তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ খুব ভালো করেই জানে যুদ্ধ শুরু হলে আমরা লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে আনতে পারি।
গত ৭ অক্টোবর গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকেই দুই দেশের সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটছে। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবানন সীমান্তে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। এরপর থেকেই দুদেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার দেশটির নাবাতিয়ে এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় একটি ভবন ধ্বংস ও ৫ জন আহত হয়েছে। সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহও ৬ টি হামলার দাবি করেছে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের সংঘাত দুই দেশের জন্যই সর্বনাশ ডেকে আনবে। জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধের পরিণতিও সিরিয়া ও অন্যান্য দেশের মতোই হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন সফররত গ্যালান্টকে বলেছেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কোন পক্ষই যুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।








