ফিলিস্তিনি বন্দিদের নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের আটকের ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইসরায়েল। এই ঘটনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন-গভীরের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। সোমবার রাতে দুটি সামরিক ঘাঁটি ঘেরাও করেছেন বিক্ষুব্ধরা। এসব ঘাঁটিতে আটক সেনাদের রাখা হয়েছিল। এই হামলা দুটিতে বেন-গভীরের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন গ্যালান্ট। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এই সেনাদের আটক করা হয়েছিল।
গ্যালান্ট প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছেন, পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেন-গভীর কোনও বাধা সৃষ্টি করেছেন কি-না তা তদন্ত করার জন্য।
হামলা হওয়া সাদে তাইমান ও বেইত লিদ সামরিক ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত।
ইসরায়েলি দৈনিক পত্রিকা হারেৎজ-এর খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলায় অংশগ্রহণকারী জোট সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ডানপন্থি ইহুদি পাওয়ার পার্টির সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা সাদে তাইমান সামরিক ঘাঁটি ঘেরাওতে অংশগ্রহণ করেছেন।
ইসরায়েলের আরেকটি পত্রিকা জেরুজালেম পোস্টের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরকারের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ওপর কর্তৃত্বের গুরুতর ক্ষতি’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ঘটনা’
নেতানিয়াহুকে পাঠানো চিঠিতে গ্যালান্ট বলেছেন, সামরিক ঘাঁটিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সমর্থন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ এমন সময় ঘটেছে যখন উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করা হচ্ছে। এটি একটি গুরুতর এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক ঘটনা, যা নিরাপত্তা, সামাজিক ঐক্য এবং ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক প্রভাবকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি আরও লিখেছেন, এই বিপজ্জনক ঘটনার বিরুদ্ধে অবিলম্বে এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
ঘাঁটিতে হামলার সময় সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। তারা প্রতিবাদকারীদের ঘাঁটিতে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছিলেন।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থতার জন্য পুলিশের সমালোচনা করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, সহায়তার অনুরোধের পরও সাড়া দিতে পুলিশ কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়েছে।
পুলিশ এখনও সেনাবাহিনীর অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেনি। দেশটির পুলিশ বাহিনী বেন-গভীরের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।








