ইরানের তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়েহকে ৬২ বছর বয়সে হত্যা করা হয়েছে। হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে ‘একটি বিশ্বাসঘাতকতামূলক ইসরায়েলি হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বুধবার সকালে হানিয়েহ ও তার এক দেহরক্ষী নিহত হন, যখন তাদের বাসভবনে আক্রমণ চালানো হয়। হানিয়েহ তেহরানে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।
হানিয়েহ ফিলিস্তিন মুক্তির আন্দোলনে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। ইসরায়েল এই হত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার না করলেও এক ইসরায়েলি মন্ত্রী হানিয়েহর মৃত্যু উদযাপন করেছেন।
বিরোধিতার ইতিহাস
হানিয়েহ গাজার শাতি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় তিনি ইসলামি স্টুডেন্ট ব্লকে যোগ দেন। এই সংগঠনকে হামাসের পূর্বসূরি হিসেবে দেখা হয়।
১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হলে হানিয়েহ যুবকদের সঙ্গে প্রতিবাদে অংশ নেন। একই বছরে হামাস প্রতিষ্ঠিত হয় এবং হানিয়েহ এর সদস্য হন। ইসরায়েল তাকে তিনবার আটক করেছে এবং ১৯৯২ সালে লেবাননে নির্বাসিত করা হয়। পরবর্তীতে হানিয়েহ গাজায় ফিরে আসেন এবং হামাসের নেতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের ঘনিষ্ঠ সহকারী হন।
রাজনৈতিক উত্থান
২০০৩ সালে ইসরায়েলি হামলা থেকে বেঁচে গিয়ে হানিয়েহ তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেন। ২০০৬ সালে হামাস ফিলিস্তিনি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে অবাক করে। এরপর হানিয়েহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী হন।
মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে তার সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন এবং ২০০৭ সালে গাজায় হামাসের নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র সরকার গঠন করা হয়। ইসরায়েল ও মিসরের সহযোগিতায় গাজায় অবরোধ আরোপ করা হয় যা আজও চলছে।
সম্ভাব্য পরিণতি
হানিয়েহ ২০১৭ সালে হামাসের রাজনৈতিক দফতরের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন এবং তুরস্ক ও কাতারে বসবাস করে বিভিন্ন স্থানে কূটনৈতিক তৎপরতায় অংশ নেন। চলতি বছর ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তার পরিবারের বহু সদস্য নিহত হন।
বিশ্লেষকরা বলেন, ইসরায়েলের হত্যা প্রচেষ্টা হামাসকে কখনও নির্মূল করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও তা হবে না। বিশ্লেষক হাসান বাররি বলেছেন, ইসরায়েল যে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে মোকাবিলা করছে তা কোনও অপরাধী গোষ্ঠী নয়, বরং একটি রাজনৈতিক আন্দোলন।
সূত্র: আল জাজিরা









