মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী একটি সাবমেরিন মোতায়েন করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন আরও জানিয়েছেন, যে বিমানবাহী রণতরি ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল, তা দ্রুত পৌঁছাবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সম্প্রতি হিজবুল্লাহ ও হামাসের উচ্চ পদস্থ নেতাদের হত্যার পর সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। অস্টিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে যেকোনও আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবে।
৩১ জুলাই তেহরানে হামাসের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়েহ হত্যার পর ইরান কীভাবে ও কখন প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইরান এই হত্যার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে এবং এর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। ইসরায়েল এই বিষয়ে মন্তব্য করেনি, তবে হত্যায় যুক্ত থাকার সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পেন্টাগন রবিবার জানিয়েছে, জাভি জর্জিয়া নামক গাইডেড মিসাইল সাবমেরিনটি এই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে গতি দ্রুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রণতরিটি ইতোমধ্যে সেখানে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান কী পদক্ষেপ নিতে পারে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, ইরান-সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ সিনিয়র কমান্ডার ফুয়াদ শুকুরের হত্যায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাবমেরিন পাঠানো ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন যে, ইরান কিছু করতে পারে এবং আঘাতের পরিকল্পনা করছে।
বিভিন্ন বিমান সংস্থা নিরাপত্তার কারণে অঞ্চলটিতে বিমান পরিষেবা বাতিল করেছে। জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা সোমবার জানিয়েছে, তারা ২১ আগস্ট পর্যন্ত তেল আবিব, বৈরুত, আম্মান, এরবিল ও তেহরানে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। সুইস এয়ারও তেল আবিব ও বৈরুতের ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ফ্রান্স বৈরুতের ফ্লাইটের স্থগিতাদেশ ২৯ জুলাই থেকে বুধবার পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
বাইডেন প্রশাসন মনে করছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা হলে অঞ্চলটির উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং বৃহস্পতিবার আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে রবিবার রাতে হামাস মার্কিন প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় বলেছে যে, ইসরায়েলকে ইতোমধ্যে টেবিলে থাকা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিতে হবে। হামাসের বিবৃতি ইঙ্গিত দেয়, তারা আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাজি, তবে আগের অবস্থানেই থাকতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে আলোচনার ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছে। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমানভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে চুক্তি না হওয়ার জন্য দায়ী করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ তিনি চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উগ্রপন্থি সদস্যদের সঙ্গে আপস করেছেন।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজ প্রথমবারের মতো এই জোটের নেতাদের একজন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মট্রিচের প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে। স্মট্রিচ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন চাপ প্রত্যাখ্যান করতে বলেছেন। তিনি মনে করেন, এই চুক্তি হামাসের কাছে আত্মসমর্পণ হিসেবে বিবেচিত হবে। হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, স্মট্রিচ ভুল এবং মিথ্যা দাবি করেছেন।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ বলেছেন, আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছি এবং স্থিতিশীলতার পথ খুঁজে বের করার জন্য কোনও প্রচেষ্টার ত্রুটি রাখব না।









