ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলে কিছু অস্ত্র বিক্রির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, বর্বরতার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় লিপ্ত ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ব্রিটেনের এই ভুল সিদ্ধান্ত হামাসকে উৎসাহিত করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে আসলো যখন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি আশ্বাস দিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের শক্তিশালী মিত্র হিসেবেই থাকবে। প্রায় ৩৫০টি রফতানি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টির স্থগিতাদেশ ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে দুর্বল করবে না।
মন্ত্রীরা বলেছেন, এই অস্ত্রগুলো গাজায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। তবে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘অত্যন্ত সীমিত’।
কিছু সমালোচকরা এই ঘোষণার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ এটি এমন এক দিনে করা হয়েছে যেদিন হামাসের হাতে নিহত ছয়জন জিম্মির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সোমবার জানান যে, ইসরায়েলে ৩০টি অস্ত্র রফতানি লাইসেন্স স্থগিত করা হবে। যা যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের যন্ত্রাংশের মতো সরঞ্জামগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে।
ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করলেও এর বেশিরভাগই গাজা সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি। তিনি বলেন, এই অস্ত্রগুলো গাজায় ‘আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে’ ব্যবহার করা হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ব্রিটিশ অস্ত্র থাকুক বা না থাকুক, ইসরায়েল এই যুদ্ধে জয়লাভ করবে এবং আমাদের যৌথ ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির ভেতর থেকেও এই সিদ্ধান্তের সময় নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। এমিলি থর্নবেরি বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার কারণে পার্লামেন্টকে অবহিত করতে তারা দ্রুত এই ঘোষণা করেছেন। তবে সময়টি দুর্ভাগ্যজনক ছিল।
৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।








