অধিকৃত পশ্চিম তীর নতুন গাজায় পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা সহিংসতা একে নতুন গাজায় পরিণত করতে পারে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
১৯৬৭ সালে গাজার কাছ থেকে পশ্চিম তীরকে নিজেদের দখলে নেয় ইসরায়েল। গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় অভিযান চালানোর পর থেকেই পশ্চিম তীরেও হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
বোরেল আরও বলেছেন, পশ্চিম তীরে নতুন করে ইসরায়েলি হামলার মূল উদ্দেশ হলো সেখানে সহিংসতা বাড়ানো, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা খর্ব করা এবং উত্তেজনা উসকে দিয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা।
মিশরের কায়রোতে আরব লীগের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বোরেল বলেন, ইসরায়েলের চরমপন্থি সরকার ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা ধ্বংস করতে চায়। ইসরায়েলের দাবি, শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো পশ্চিম তীর ও গাজা সংযুক্ত করা। তাই এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পশ্চিম তীরও গাজার মতো সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন বোরেল।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিন্দা জানায়, ধিক্কার দেয় কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।
অথচ কিছু ইসরায়েলি মন্ত্রী সম্প্রতি পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ইয়েশ দীন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, গত বছর বসতি নির্মাণের জন্য সবচেয়ে বেশি অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এই বসতি অবৈধ। প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ইসরায়েলি ও ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি পশ্চিম তীরে বসবাস করছে।
গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণে অন্তত ৬৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।








