ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানের সময় তিন ফিলিস্তিনির মরদেহ ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার কাবাতিয়ায় এই ঘটনা ঘটে। চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের একটি উদাহরণ বলে মনে করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
আল-আরাবি টেলিভিশনের প্রতিবেদক আমীদ শেহাদেহ সিএনএনকে জানান, সেনাবাহিনী প্রথমে একটি বুলডোজার দিয়ে মরদেহগুলো নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। পরে সেনারা ছাদে উঠে মরদেহগুলো লাথি দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একজন সাংবাদিক এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। কিন্তু, তিনি মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। বৃহস্পতিবারের অভিযানে ইসরায়েলি সেনারা সাতজন মিলিট্যান্টকে হত্যা করেছে বলে জানায় ইসরায়েল। এদের মধ্যে চারজন বন্দুকযুদ্ধে এবং তিনজন বিমান হামলায় নিহত হন। তবে কোনও গোষ্ঠী নিহতদের নিজেদের যোদ্ধা হিসেবে দাবি করেনি।
এপি’র প্রাপ্ত ফুটেজে দেখা গেছে, তিনজন ইসরায়েলি সেনা একটি নিথর দেহকে ছাদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে এবং সেটি নিচে ফেলে দেয়। অন্যান্য ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনারা একে একে অন্যান্য মরদেহগুলোও ছাদ থেকে ফেলে দেয়।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, মৃতদেহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি সেনাদের দায়িত্ব। তবে এ ঘটনায় তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করেছে।
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা আল-হাকের পরিচালক শাওয়ান জাবারিন এই ভিডিওটি দেখে বলেছেন, এটি নিছকই বর্বরতা। এই কাজের জন্য সেনাবাহিনীর কোনও প্রয়োজন ছিল না।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, ভিডিওটি খুবই উদ্বেগজনক। যদি এটি সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং পেশাদার সেনাদের জন্য শোভন নয়।
এ ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনা আইডিএফ-এর মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি একটি গুরুতর বিষয়। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে, অভিযুক্ত সেনাদের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত চলছে কিনা, তা উল্লেখ করতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাহিনীটি।







