লেবাননে ‘সর্ব শক্তি’ দিয়ে যুদ্ধ করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরপর থেকে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অব্যাহত হামলায় হিজবুল্লাহর বিমান ইউনিটের কমান্ডারকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ হামলায় এখন পর্যন্ত দুই জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। তবে কমান্ডার হত্যার তথ্য নিশ্চিত করেনি তারা।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহতের কথা জানানো হয়েছিল। গত গত সোমবার থেকে লেবাননে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। তখন থেকে এ পর্যন্ত ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
অব্যাহত হামলার মুখে লেবাননে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ২২ হাজারের বেশি মানুষ সীমান্ত পার হয়ে সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
এর আগে, নেতানিয়াহু বলেছিলেন, সামরিক বাহিনী লেবাননে ‘সর্ব শক্তি’ দিয়ে যুদ্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও মিত্র দেশগুলো ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ২১ দিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালে এই বক্তব্য দেন তিনি।
নেতানিয়াহুর এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুদ্ধবিরতির খবর সত্য নয়।’
নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, তিনি এই প্রস্তাবের কোনও জবাবও দেননি। বরং ইসরায়েলি বাহিনীগুলোকে দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজও।
গত ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা চলছে।
হিজবুল্লাহ’র দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে হামলা চালাচ্ছে তারা। আর ইসরায়েল বলছে, তারা উত্তর ইসরায়েলে বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফিরিয়ে আনতে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তবে সম্প্রতি তাদের এই সংঘাত সর্বাত্বক যুদ্ধে রুপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।








