ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি শনিবার এ খবর জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছে। বর্তমানে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও গাজার হামাসের মতো ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইসরায়েল।
দেশটি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা ১ অক্টোবর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেবে। ওই হামলা গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছিল।
তবে এনবিসি জানায়, ইসরায়েল এখনও চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি ঠিক কখন ও কীভাবে প্রতিশোধমূলক আঘাত হানা হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ হামলা ইরানের পরমাণু স্থাপনায় চালানো হবে না এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যাও ইসরায়েলের লক্ষ্য নয়।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ইয়ম কিপুরের সময় হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী প্রায় ২০০টি হিজবুল্লাহ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘাঁটি, রকেট লঞ্চার, ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান এবং অন্যান্য অবকাঠামো।
ইসরায়েল জানায়, লেবানন থেকে ছোঁড়া পাঁচটি রকেটকে বিমানবাহিনী প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। রবিবার সামরিক বাহিনী আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননে দুটি পৃথক সংঘর্ষে এক সেনা ও একজন রিজার্ভ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন সেনা হালকা থেকে মাঝারি আঘাত পেয়েছেন।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ খুঁজে পাওয়ার পর তারা একজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে আটক করেছে। ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুতও পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেছে।
হিজবুল্লাহ রবিবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হাইফার দক্ষিণে তিরাত হাকারমেল পরিবহন ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স









