এক বছরের দীর্ঘ গাজা যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে আসার পর কিছু ইসরায়েলি উদ্যোক্তা জিম্মিদের মুক্তির জন্য আর্থিক পুরস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন। ইসরায়েলের সোডাস্ট্রিমের সাবেক সিইও ড্যানিয়েল বিয়ার্নবাম সোমবার এএফপিকে জানান, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ঘোষণা দেওয়ার পর প্রায় ১০০টি কল পেয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, গাজা থেকে জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করে আনলে তাকে ১ লাখ ডলার নগদ বা বিটকয়েন দেওয়া হবে।
ইসরায়েল-ভিত্তিক সোডা কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান বিয়ার্নবাম বলেন, তার এই প্রস্তাব বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত বৈধ থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন যে অধিকাংশ কল ছিল ঠাট্টা, হুমকি বা গালাগাল। তবে, ১০ থেকে ২০টি কল সত্যি হতে পারে এবং সেগুলো যাচাইয়ের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিয়ার্নবাম বলেন, যারা তাকে কল করেছেন, তারা অর্থের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন গাজা থেকে বের হওয়ার বিষয়ে। তার মতে, এত জিম্মির মধ্যে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু বেসামরিক নাগরিকের কাছে বন্দিদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য থাকতে পারে। এমন বেসামরিক লোক থাকতে পারে যারা মনে করে, যথেষ্ট হয়েছে, এখন তারা বাঁচতে চায়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের পরিচালিত হামলায় ২৫১ জন লোককে জিম্মি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৭ জন এখনও গাজায় বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৪ জনকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মৃত বলে উল্লেখ করেছেন। হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০৬ জন লোক নিহত হন। ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে গাজায় কমপক্ষে ৪২ হাজার ৬০৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
বিয়ার্নবাম বলেন, আমি আশা করছি না যে, আমরা সবাইকে ফেরত পাবো। তবে একজনকে মুক্ত করতে পারলেও আমি খুশি হবো।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের জন্য ইসরায়েলি সরকারের অনুমতি তিনি নেননি। আমি মনে করি, আর্থিক পুরস্কারের বিষয়টি বেসরকারি খাত থেকে আসা উচিত, দেখা যাক এটা কাজ করে কিনা।
বিয়ার্নবামের উদ্যোগ শুনে ইসরায়েলি-আমেরিকান রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ডেভিড হেগারও অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। তিনি ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে রবিবার জানান, তিনি ইতোমধ্যে তার বন্ধুদের সহায়তায় প্রায় ৪ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছেন। তিনি অন্যান্য ব্যবসায়ীদের আরও অবদান রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। তার লক্ষ্য ১ কোটি ডলার সংগ্রহ করা।








