সৌদি আরবে এক শীর্ষ সম্মেলনে একত্রিত হয়েছেন আরব ও মুসলিম নেতারা। সোমবার (১১ নভেম্বর) তারা সেখানে গাজা ও লেবাননের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এর মাধ্যমে আলোচনা শেষে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি বার্তা পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত অক্টোবরে নতুন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিল। যার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচার। রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন গত বছরের অনুরূপ একটি বৈঠকের এক বছর পর আয়োজিত হয়েছে। সেখানে আরব লিগ এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নেতারা গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক আন্না জ্যাকবস জানান, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিজয়কে কেন্দ্র করে এই সম্মেলন আঞ্চলিক নেতাদের জন্য একটি সুযোগ হতে পারে, যেখানে তারা আসন্ন মার্কিন প্রশাসনকে তাদের প্রত্যাশাগুলো স্পষ্টভাবে জানাতে পারে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বার্তাটি হবে সংলাপ, উত্তেজনা কমানো এবং ইসরায়েলি সামরিক অভিযানগুলোর নিন্দা।
গাজায় যুদ্ধ শুরু হয় গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক আক্রমণের পর। ওই হামলায় ১ হাজার ২০৬ জন প্রাণ হারান, যার অধিকাংশই ছিল বেসামরিক। এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় ৪৩ হাজার ৬০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হন বলে জানিয়েছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘও এই পরিসংখ্যানকে গ্রহণযোগ্য মনে করে। লেবাননের ইরানপন্থি হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।
গাজায় বেসামরিক জনগণের ওপর ইসরায়েলের অভিযানের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা সত্ত্বেও, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের অটুট সামরিক সমর্থন ধরে রেখেছেন।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি আকুণ্ঠ সমর্থন দেখিয়েছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক মতের বিরুদ্ধে গিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং মার্কিন দূতাবাস সেখানে স্থানান্তর করেন। এছাড়া, তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে ছিলেন। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
যদিও সৌদি আরব এই চুক্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়নি। তবে নিজের শাসনামলে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না।
সৌদি রাজনীতি বিশেষজ্ঞ উমের করিম মনে করেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বার্তা পাঠাতে চায় যে, মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তাদের ওপর ভরসা করা যায়।
করিম বলেন, ট্রাম্প যদি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ বিস্তৃত করতে চান, তবে সেই কাজের জন্য সৌদি আরবই মূল সঙ্গী হবে।
৫৭ সদস্যবিশিষ্ট ওআইসি এবং ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব লিগে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তার আঞ্চলিক সংহতিতে দৃঢ় বিরোধিতা করা দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত বছর রিয়াদের সম্মেলনে ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং তেলের সরবরাহ বন্ধ করার মতো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।
করিমের মতে, সোমবারের সম্মেলন পরবর্তী বিবৃতিতে ইসরায়েলের নিন্দা জানানো হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ও মধ্যস্থতার জন্য আহ্বান জানানো হতে পারে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের মার্চে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরান সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল।









