ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও যুদ্ধবিরতি হবে না। এই হুমকির পর সকাল থেকে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা জোরদার হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী ১২টি অবস্থান চিহ্নিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সতর্ক বার্তা দেয়। এতে ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের জানানো হয় যে, তারা হিজবুল্লাহর স্থাপনাগুলোর কাছে অবস্থান করছেন এবং দ্রুত সরে যেতে হবে। এই আক্রমণের জবাবে লেবানন থেকে ইসরায়েলে হামলাকারী ড্রোন পাঠানো হয়। একটি ড্রোন হাইফার একটি কিন্ডারগার্টেনের উঠানে আঘাত হানে। তবে বাচ্চাদের আগে থেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে মঙ্গলবারের হামলায় ১৫টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্রগুলো। গত সেপ্টেম্বর থেকে এই এলাকা অব্যাহতভাবে হামলার শিকার হওয়ায় বাসিন্দারা ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দশতলা বিশিষ্ট একটি ভবনে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ভবনটি ধসে পড়ে এবং চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার পর, ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে এক বছরের পুরোনো এই সংঘাত পুনরায় তীব্র হয়ে ওঠে। সেপ্টেম্বর থেকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকা এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ব্যাপক বোমা বর্ষণ শুরু করেছে এবং সেখানে সেনা মোতায়েন করেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে। এছাড়া, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আক্রমণ চালিয়ে অনেক এলাকা ধ্বংস করে দিয়েছে।
ইসরায়েলের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সোমবার প্রথমবারের মতো সামরিক স্টাফদের সঙ্গে বৈঠক করে বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি তখনই হবে, যখন ইসরায়েল নিজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে এবং লেবাননে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হবে।
তিনি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করে লিতানি নদীর পেছনে সরিয়ে দেওয়ার ও উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার বলেছেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনা কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, তবে যুদ্ধ শেষ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে যথাযথ বাস্তবায়ন।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থান জানিয়ে বলেছে, তারা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।









