ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি অভিযানের সময় একজন নারী জিম্মি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গোষ্ঠীটির এমন দাবি নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে নিহত ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কখন ও কীভাবে নিহত হয়েছেন সেটিও স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) বলেছে, হামাসের এই দাবি এখনও তারা ‘যাচাই বা খণ্ডন’ করতে পারেনি। তবে তাদের প্রতিনিধিরা নিহত ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
এক বিবৃতিতে আইডিএফ বলেছে, ‘আজ সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী সংগঠন হামাস একটি নথি প্রকাশ করেছে যেটিতে অপহৃত একজন নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা এই তথ্য পরীক্ষা করছি এবং এই পর্যায়ে আমরা এটি যাচাই বা খণ্ডন করতে পারিনি।’
হামাস দাবি করেছে, ওই নারীর অপহরণকারীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ পর যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। তখন তার মৃত্যুর কথা জানা যায়।
হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবেদা বলেছেন, নিহত ওই নারীর সঙ্গে জিম্মি করা আরেক নারী আহত হয়েছে এবং তার অবস্থা গুরুতর।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মনে করে, গাজায় প্রায় ৬০ জিম্মি জীবিত এবং আরও কয়েক ডজনের মৃতদেহ রয়েছে।
হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য অনেক দেশ।
শনিবার গাজাজুড়ে ইসরায়েল যখন অভিযান চালাচ্ছিল তখন এই খবরটি সামনে আসে।
গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রায় ১২০ জন নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় গাজায় পাল্টা অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। হামাসের ওই হামলায় ইসরায়েল প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং আরও প্রায় আড়াইশো জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় সশস্ত্র যোদ্ধারা।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ নিহত এবং আরও প্রায় এক লাখ ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।








