যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে আবারও ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেল আবিবের সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের ৩ শহরে বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র ও রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, ‘আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান’ বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন পর এই হামলা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
ট্যাংকের গোলা মারকাবা, ওয়াজানি কাফারচৌবা শহরে আঘাত হানে। এই শহরগুলো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী ব্লু লাইনের দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। একটি নিরাপত্তা সূত্র মারকাবায় দুজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির অধীনে বুধবার ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ১৪ মাসের লড়াইয়ে বিচ্ছিন্ন উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় মানুষ যাতে নিজ বাড়ি ফিরতে পারে।
তবে পুনরায় সেখানে ফেরার পথ জটিল হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনারা এখনও সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী উপত্যকার পাশের শহরগুলোর বাসিন্দাদের এখনই নিজ বাড়িতে না ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে হামলার শিকার হওয়া ওই তিন শহর সেই উপত্যকার মধ্যেই পড়েছে।
গাজা যুদ্ধের সমান্তরালে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করেছিল হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল। তবে এই হামলার বিষয়ে কোনও পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
লেবাননের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি একটি বিরল কূটনৈতিক অর্জন। এটি সংঘাতে জর্জরিত একটি অঞ্চলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ’র মধ্যে চলমান কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতটির অবসান ঘটিয়েছে। তবে ইসরায়েল এখনও গাজা উপত্যকায় তার অপর চিরশত্রু ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে লড়াই করছে।
যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যেতে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বাসিন্দাদের সীমান্তের কাছাকাছি গ্রামে ফিরে যেতে বাধা দিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।








