সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতৃত্বে একটি বড় ধরনের হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর ডজনখানেক সেনা নিহত হয়েছে। রাশিয় দাবি করেছে, তাদের পরিচালিত বিমান হামলায় তিন শতাধিক বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। সিরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের এই হামলার পর সরকারপক্ষকে নতুন করে অবস্থান নিতে বাধ্য করা হয়েছে। যা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের জন্য গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে সহায়তা করতে তাদের বিমান বাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই হামলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের স্থবির হয়ে থাকা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। ২০২০ সাল থেকে রণক্ষেত্র অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল।
হায়াত তাহরির আল-শাম, যা একসময় আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গোষ্ঠীটি চিহ্নিত। আলেপ্পোতে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এই গোষ্ঠীর বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।
বিদ্রোহী যোদ্ধা আলী জুমা বলেছেন, আমি আলেপ্পোর সন্তান। ২০১৬ সালে আমাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল। আল্লাহর রহমতে আমরা এখন আবার ফিরে এসেছি। এটি বর্ণনাতীত অনুভূতি।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনএসসি) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আঞ্চলিক রাজধানীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। এনএসসি মুখপাত্র শন সাভেট বলেছেন, সিরিয়া রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং রাশিয়া ও ইরানের ওপর নির্ভর করায় পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে প্রমাণ নেই যে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় সম্পৃক্ত। আমরা সব পক্ষকে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানাই এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২০১৫ সালের রেজুলিউশন ২২৫৪ অনুসারে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার তাগিদ দিচ্ছি।
সিরিয়ার সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা একাধিক দিক থেকে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। এর ফলে সেনাবাহিনী তাদের অবস্থান নতুন করে বিন্যস্ত করতে বাধ্য হয়েছে। আলেপ্পো শহরে বিদ্রোহীদের আক্রমণ প্রতিহত করতে সিরিয়ার বিমান বাহিনী এবং রাশিয়া বিদ্রোহীদের অবস্থানে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলায় বিদ্রোহীদের অবস্থান, কমান্ড পোস্ট ও অস্ত্রাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে ৩০০ বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিদ্রোহীরা আলেপ্পোর বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করেছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে এখন ইদলিব প্রদেশের মারাত আল-নুমান শহরও রয়েছে। সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবে সিরিয়া ও রাশিয়ার বিমান হামলায় চারজন বেসামরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তুরস্ক জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা এড়াতে বিদ্রোহীদের কিছু কর্মকাণ্ডে বাধা দিয়েছে।
বাশার আল-আসাদের সরকার রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনে টিকে রয়েছে, অন্যদিকে তুরস্ক বিদ্রোহীদের কিছু অংশকে সমর্থন দিচ্ছে। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। গাজা ও লেবাননে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি এই সংঘাত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে বাড়িয়ে তুলেছে।









