এবার হামা প্রদেশের দিকে অগ্রসর হওয়ার দাবি করেছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। আলেপ্পো ও ইদলিব শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রবিবার (১ ডিসেম্বর) থেকে হামার দিকে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে,বিদ্রোহীদের এই অগ্রযাত্রার প্রচেষ্টা বাধা দিতে সিরিয়ান ও রুশ বাহিনী পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। শনিবার থেকে তারা বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশ ও আলেপ্পোতে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
গত শুক্রবার এক আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর আলেপ্পোর প্রাণকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে বিদ্রোহীরা। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক রামি আবদুল রহমান শনিবার বলেন, আলেপ্পো শহরের অর্ধেকই এখন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে।
তবে সিরিয়া ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমান বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে আলেপ্পোর শহরতলিতে হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহীরা আলেপ্পোতে ঢুকে পড়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিরিয়ায় অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মস্কো।
এছাড়া হামা প্রদেশেও শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি বাহিনী। সানা জানিয়েছে, শনিবার রাতে সরকারী বাহিনী হামার উত্তরের গ্রামীণ অঞ্চল থেকে বিদ্রোহীদের পিছু হটিয়েছে। সেখানে সেনাদের ভারী সরঞ্জাম ও রকেট লঞ্চার দিয়ে পুনরায় সজ্জিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সানা।
আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত, আল-কায়েদার সিরিয়ান এইচটিএস দলটি দাবি করেছে যে তারা বেশ কয়েকটি কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খানাসির শহর, আলেপ্পো ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি, আলেপ্পোর সামরিক একাডেমি এবং ফিল্ড আর্টিলারি কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
এদিকে অভিযানের শুরু থেকে প্রথমবারের মতো শনিবার রাতে প্রকাশিত মন্তব্যে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেন যে তার বাহিনী ‘সন্ত্রাসী এবং তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে’ সরকারের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্রোহীদের আক্রমণ যতই তীব্র হোক না কেন, সিরিয়া তাদের পরাজিত করতে সক্ষম।
তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক সিনেম কোসেওগ্লু জানান, বিদ্রোহীরা এখনো হামার শহরতলীতে রয়েছে। সেখানে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াই চালাচ্ছে তারা। যে গ্রামগুলো বা শহরগুলো বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, কখনো কখনো সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সেগুলো পুনর্দখল করছে।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে গণতন্ত্রের দাবিতে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সরকার দমন-পীড়ন চালালে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এর পর থেকে এই লড়াইয়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে ২০১৫ সালে সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপ এবং দুই বছর আগে ইরানিরাও সিরিয়াতে প্রবেশ করে আসাদের পক্ষে যুদ্ধের অভিমুখ পরিবর্তন করতে সাহায্য করেছিল। এছাড়া আলেপ্পোর ওপর রাশিয়ার বিমান হামলাগুলো ২০১৬ সালে সরকারী বাহিনীকে শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেছিল। এরপর ২০২০ সালের পর থেকে তুলনামূলক স্থবির ছিল সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ।








