সিরিয়ার কৌশলগত শহর হোমস পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে ঘোষণা করেছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালেই মাত্র একদিনের যুদ্ধের পর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করলো তারা। এই জয়ে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ২৪ বছরের শাসন ক্ষমতা এখন ঝুলে আছে। বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হওয়ায় আসাদের শাসন পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
হোমস থেকে সেনাবাহিনী সরে যাওয়ার পর হাজারো বাসিন্দা রাস্তায় নেমে আসে। তারা নাচতে নাচতে স্লোগান দিতে থাকে, ‘আসাদ শেষ, হোমস মুক্ত’ এবং ‘সিরিয়া দীর্ঘজীবী হোক, বাশার আল-আসাদ নিপাত যাক।’ বিদ্রোহীরা আকাশে গুলি ছুড়ে উল্লাস প্রকাশ করে। তরুণেরা আসাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে।
হোমসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিদ্রোহীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এর ফলে দামেস্কের আলাওয়াইট সম্প্রদায়ের ঘাঁটি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলেই আসাদের রুশ মিত্রদের নৌঘাঁটি ও বিমানঘাঁটি রয়েছে।
প্রধান বিদ্রোহী নেতা, হায়াত তাহরির আল-শামের কমান্ডার আবু মোহাম্মদ আল-গোলানি হোমসের দখলকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যোদ্ধাদের প্রতি তিনি যারা অস্ত্র নামিয়ে ফেলবে তাদের কোনও ক্ষতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিদ্রোহীরা শহরের কারাগার থেকে হাজার হাজার বন্দিকে মুক্ত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী তাড়াহুড়ো করে নথিপত্র পুড়িয়ে শহর ছেড়ে চলে গেছে।
এদিকে বিদ্রোহীরা দ্রুত রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় দামেস্কের বিভিন্ন অঞ্চলে বাসিন্দারা আসাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।
রবিবার সকালে বিদ্রোহী কমান্ডার হাসান আব্দুল ঘানি জানান, দামেস্কের চারপাশের গ্রামাঞ্চল সম্পূর্ণ মুক্ত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
একটি উপশহরে আসাদের বাবা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের একটি মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়।
তবে সিরিয়ার সেনাবাহিনী দামেস্কের চারপাশে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আসাদ এখনও রাজধানীতে রয়েছেন।
হোমসের পতন এবং রাজধানীতে হুমকি আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের জন্য তাৎক্ষণিক অস্তিত্ব সংকট তৈরি করেছে। এছাড়া এর ফলে ইরানের মতো আসাদের প্রধান আঞ্চলিক মিত্রের প্রভাবও হুমকির মুখে পড়েছে।
বিদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি হতে পারে পাঁচ থেকে দশ দিনের মধ্যে। আরেকজন বলেছেন, আসাদ হয়তো আগামী সপ্তাহেই ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন।
কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, মিশর, ইরাক, ইরান, তুরস্ক এবং রাশিয়া এক যৌথ বিবৃতিতে পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছে এবং রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে তারা কোনও কার্যকর পদক্ষেপে একমত হয়েছে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।









