মাত্র এক বছর আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার স্ত্রী আসমাকে ছয় দিনের সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিল চীন। আসাদের প্রতি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে চীন তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিল। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আসাদকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং পুনর্গঠনে’ সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
কিন্তু গত রবিবার বিদ্রোহী জোটের আকস্মিক অভিযান দামেস্ক দখল এবং আসাদ সরকারের পতন ঘটিয়ে তার পরিবারের ৫০ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। এই ঘটনা চীনের মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে সীমাবদ্ধতা এবং তাদের কৌশলগত দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
চীন ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালায়। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমঝোতাও করানোর চেষ্টা করেছে বেইজিং। তবে আসাদের পতন দেখিয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোতে প্রভাব বিস্তারে চীনের ক্ষমতা সীমিত।
আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো জোনাথন ফুলটন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ফলাফল নির্ধারণে চীনের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত ধারণা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আসাদের পতন শুধু ইরান ও রাশিয়ার প্রভাব কমায়নি, বরং এটি চীনের বৈশ্বিক কৌশলের জন্যও একটি বড় ধাক্কা।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসাদের পতনের প্রতিক্রিয়ায় খুব বেশি কিছু বলেনি। মুখপাত্র মাও নিং বলেন, সিরিয়ার জনগণের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ভবিষ্যতে দামেস্কের নতুন সরকারকে সমর্থন দেওয়ার আগে সময় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
২০২২ সালে সিরিয়া চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দিলেও সেখানে বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগ হয়নি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক ঝুঁকি কমানোর কৌশল চীনের আগ্রহকে সীমিত করেছে।
চীনের এই সীমাবদ্ধতা তাদের বৈশ্বিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের প্রভাব বিস্তারে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা যাচ্ছে।
গ্রোনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিল ফিগুরোয়া বলেন, চীন মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। আসাদের পতনের পর চীনের মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির সীমাবদ্ধতা উন্মোচিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বেইজিংয়ের।
সূত্র: রয়টার্স









