সিরিয়ায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে তুরস্ক। দেশটি জানিয়েছে, বাশার আল-আসাদের পতনের পর নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে একটি রক্তপাতহীন সমঝোতার শর্ত মেনে নিতে হবে কুর্দি বাহিনীকে। অন্যথায় তুরস্ক কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মঙ্গলবার সিএনএন তুর্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দেন।
হাকান ফিদান বলেছেন, যা প্রয়োজন, তা করব। কুর্দি বাহিনীর পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) যদি আঙ্কারার শর্ত মেনে না নেয়, তবে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তুরস্কের লক্ষ্য হলো, সিরিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা। ফিদান বলেন, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব ওয়াইপিজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তবে আঙ্কারা প্রয়োজনে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
গত মাসে বিদ্রোহী বাহিনীর হাতে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তুরস্কের সরাসরি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বেড়েছে। আঙ্কারা ওয়াইপিজিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর শাখা হিসেবে বিবেচনা করে। পিকেকে দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কের সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।
তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিকেকে-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তুরস্ক ওয়াইপিজি ও পিকেকে-কে একই সন্ত্রাসী আদর্শে বিশ্বাসী এবং একই জাতীয়তাবাদী বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখে।
হাকান ফিদান বলেছেন, তুরস্ক, ইরান ও ইরাক থেকে যাওয়া আন্তর্জাতিক যোদ্ধারা অবশ্যই সিরিয়া ছাড়বে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এই বিষয়ে কোনও প্রস্তুতি বা উদ্যোগ লক্ষ্য করিনি। আমরা অপেক্ষা করছি।
অন্তর্বর্তীকালীন সিরীয় নেতা আহমেদ আল-শারা বলেছেন, কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এ বিষয়ে তুরস্কের সমর্থন রয়েছে।
হাকান ফিদান বলেছেন, সন্ত্রাসী যোদ্ধারা সিরিয়া ছাড়বে এবং পিকেকে নেতৃত্বকে দেশ ছাড়তে হবে। বাকি সদস্যরা অস্ত্র ত্যাগ করে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হবে। এটি রক্তপাতহীন ও সমস্যামুক্ত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয়।
তুরস্ক ইতোপূর্বে আফরিন, রাস আল-আইন এবং তাল আবিয়াদে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এ বিষয়ে ফিদান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন হলে আমরা আবারও তা করব। আমাদের কাছে এটি ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই।
তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপ্রাপ্ত ওয়াইপিজি-র সঙ্গে বিরোধ নতুন মাত্রা পেতে পারে। তবে আঙ্কারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করবে না।
ফিদান আরও বলেন, আমাদের সীমান্ত সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।
সূত্র: আল জাজিরা









