ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক স্থগিত করেছেন। বৈঠকটিতে হামাসের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদনের কথা ছিল। তিনি দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি শেষ মুহূর্তে একটি সংকট তৈরি করেছে।
হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রিশক বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা বুধবার যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে, তাতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এ বিলম্ব ঘটেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নেতানিয়াহু চরম ডানপন্থি জোটসঙ্গীদের চাপের মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মট্রিচ যুদ্ধবিরতি বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দাবি করা হয়েছে, হামাস চুক্তির কিছু অংশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে বাড়তি শর্ত আরোপ করেছে। তবে এ অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এটি প্রথম নয়, যখন নেতানিয়াহু এমন একটি চুক্তি ভেস্তে দিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পথে থাকলেও, নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত চরম ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তিকে খুশি করতে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বেন-গভীরের মতো নেতারা অতীতেও এমন চুক্তি ভণ্ডুল করতে চেয়েছেন। তিনি যুদ্ধবিরতিকে দুর্বলতার প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন।
বেন-গভীরের নেতৃত্বাধীন ওটজমা ইহুদিত দল চুক্তি বাস্তবায়িত হলে জোট সরকার ছাড়ার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে, রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টির নেতা স্মট্রিচ এটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
চরম ডানপন্থিরা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাখ্যানের পক্ষে। তারা মনে করে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যেকোনও প্রচেষ্টা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ইহুদি পরিচয়ের জন্য হুমকি।
নেতানিয়াহুর সমালোচকরা বলছেন, তার সরকার ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি ও রক্ষণশীল। গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারগুলোও তাকে শান্তি প্রচেষ্টা বানচাল করার অভিযোগ করেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড








