ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান নতি স্বীকার করবে না। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের তেহরান সফরের একদিন আগেই ইরানের তেল শিল্পের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তেল রফতানি ইরানের আয়ের প্রধান উৎস। ট্রাম্প ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ কৌশল পুনর্বহাল করেছেন, যার লক্ষ্য ইরানের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। তার প্রথম মেয়াদে এই কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল।
আব্বাস আরাঘচি ল্যাভরভের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে আলোচনায় বসব না। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত থাকলে তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনও সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্প ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ বা সম্মানজনক নয়। তবে তিনি ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সময় সরাসরি আলোচনা নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা পুনর্বহাল করেননি।
২০১৮ সালে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এরপর থেকে তেহরান চুক্তির পারমাণবিক সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং বাইডেন প্রশাসনের অধীনে চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধানে কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখনও বিবেচনায় রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার হওয়াতে পশ্চিমা দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়েছে।
আরাঘচি বলেন, আমাদের সহযোগিতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে হবে, যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন এবং অন্যান্য অনেক ক্ষেত্র।
এই সফরে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।









