গাজায় সহায়তাপ্রত্যাশীদের ‘অমানবিক হত্যাকাণ্ডে’ ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাজ্যসহ ২৮ দেশের তীব্র নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ জুলাই ২০২৫, ০৯:৩১আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ১১:৪৯

যুক্তরাজ্যসহ ২৮টি দেশ গাজায় যুদ্ধের তাৎক্ষণিক সমাপ্তি দাবি করেছে। তারা বলেছে, সেখানে বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ ‘নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে’। ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা দেশগুলো সোমবার (২১ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের উচিত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। তারা গাজায় সাহায্য বিতরণকেন্দ্রের আশেপাশে শত শত ফিলিস্তিনিসহ বেসামরিক মানুষদের ‘অমানবিক হত্যাকাণ্ডে’র নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজাবাসীদের জন্য ইসরায়েলের সহায়তা বিতরণের মডেলটি বিপজ্জনক। এতে সহায়তা ধীরগতিতে সরবরাহ এবং খাদ্য ও পানির সন্ধানে যাওয়ার সময় ৮০০’র বেশি বেসামরিক লোক নিহত হওয়া ‘ভয়াবহ’।

গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত সপ্তাহান্তে ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় ইসরায়েলি গুলিতে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আরও ১৯ জন অপুষ্টিজনিত কারণে মারা গেছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিবৃতিকে ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং হামাসকে ভুল বার্তা প্রদানকারী’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

গাজায় চলমান ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ এরই মধ্যে ২১ মাসের বেশি সময় পার হতে চলেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির ২০ লাখের বেশি বাসিন্দার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ২১ মাসে ইসরায়েলের কৌশলের বিরুদ্ধে বহু আন্তর্জাতিক বিবৃতি এসেছে। এমন সময় তবে সোমবারের ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর এই যৌথ বিবৃতিটি তার স্পষ্ট ভাষার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এই বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যসহ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতির শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘গাজার যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়া উচিত।’

এরপর সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘গাজার বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ নতুন এক গভীর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসরায়েলি সরকারের সহায়তা সরবরাহের পদ্ধতি বিপজ্জনক। এটি অস্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং গাজাবাসীর মানবিক মর্যাদাকে লঙ্ঘন করে।’

বিবৃতিতে একটি সমঝোতাভিত্তিক অস্ত্রবিরতি, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে আটক বন্দীদের মুক্তি এবং জরুরি মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা গাজায় ধীরগতিতে সহায়তা সরবরাহ এবং বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য ও পানির খোঁজে থাকা বেসামরিক মানুষ, যার মধ্যে শিশুরাও আছে, তাদের অমানবিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। এটি আতঙ্কজনক যে ৮০০’র বেশি ফিলিস্তিনি সহায়তা নিতে গিয়ে নিহত হয়েছে।”

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি পরে হাউজ অফ কমন্সে বলেন, ‘গাজায় ভয়াবহতার এক দীর্ঘ তালিকা চলছে, যার মধ্যে নিরাশ, অনাহারক্লিষ্ট শিশুদের হত্যা অন্তর্ভুক্ত।’

তিনি ঘোষণা করেন, যুক্তরাজ্য এই বছরে গাজার জন্য অতিরিক্ত ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড মানবিক সহায়তা দেবে। ল্যামি বলেন, তিনি “ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং টিকে থাকার অধিকারের দৃঢ় সমর্থক হলেও, ইসরায়েলি সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ড বিশ্বে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকেও দুর্বল করছে।”

জাতিসংঘ ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই মাসের বেশি সময় সম্পূর্ণ অবরোধ রাখার পর গত মে মাসের শেষের দিক থেকে ইসরায়েল তা শিথিল করে। এরপর থেকে প্রতিদিনই খাদ্যের জন্য অপেক্ষাকালে ফিলিস্তিনিদের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৮৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ ও এর অংশীদাররা গাজার বর্তমান সাহায্য পদ্ধতির সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কারণ এটি অনিরাপদ এবং মানবিক সহায়তার নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও মানবিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করে।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর জানায়, জিএইচএফের সহায়তা বিতরণ শুরুর পর আট সপ্তাহে এর আশেপাশে ৬৭৪ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার কনভয় চলাচলের পথে আরও ২০১টি হত্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, গ্রিস, জাপান, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন এবং সুইজারল্যান্ড। দেশগুলোর পক্ষে তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

শনিবারও খান ইউনিস এবং নিকটবর্তী রাফাহ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন- জিএইচএফের দুটি স্থানের আশপাশে আরও ৩৯ জন নিহত হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এর প্রতিশোধ নিতে ওইদিনই ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় তখন থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

/এস/
সম্পর্কিত
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
কী, কেন, কীভাবেপশ্চিমবঙ্গে যে কারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান